

নির্বাচন এলেই অধিকাংশ রাজনৈতিক লড়াই আদালতেই সারা হয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ঘৃণাবক্তব্য মামলা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। জরুরী ভিত্তিতেই এই আবেদনের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর লাগাতার ঘৃণাসূচক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিআইএম এবং সিপিআই। বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলা তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘’সমস্যা হল, যখন নির্বাচন এগিয়ে তখন প্রায়শই রাজনৈতিক লড়াইটা সুপ্রিম কোর্টে লড়ে নেওয়া হয়। আমরা এই আবেদনটি খতিয়ে দেখব। শুনানির তারিখ জানিয়ে দেব।‘’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো হিমন্ত বিশ্বশর্মার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আসাম বিজেপির এক্স হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিওর ক্যাপশন ছিল - ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট’ এবং 'নো মার্সি। ওই ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব শর্মাকে বন্দুক ছুঁড়তে দেখা গেছিল এবং বন্দুকের নিশানায় দেখানো হয়েছিল কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ এবং এক দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তিকে। গৌরব গগৈয়ের মাথায় ফেজ টুপি রয়েছে এবং দাড়িওয়ালা ব্যক্তির পরিধান দেখলে অনুমান করা কঠিন নয় যে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের। পরে এই দুজনকে ছবিতে পরপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাংবাদিক, আইনজীবী, সমাজকর্মীরা এই ভিডিওর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তুমুল বিতর্কের মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি বিজেপি আসামের এক্স হ্যান্ডেল থেকে ডিলিট করা হয়।
এছাড়াও গত ২৭ জানুয়ারি একটি জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছিলেন, "চার থেকে পাঁচ লক্ষ মিয়াঁকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।‘’ তিনি আরও বলেছিলেন, "হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিজেপি সরাসরি মিয়াঁদের বিরুদ্ধে।… যেভাবেই হোক মিয়াঁদের কষ্ট দিতে হবে। যদি আপনি ওদের রিকশায় চড়েন, যদি ভাড়া ৫ টাকা হয়, তাহলে তাদের ৪ টাকা দিন।”
উল্লেখ্য, ‘মিয়াঁ’ শব্দটি মূলত আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য ব্যবহৃত একটি অবমাননাকর শব্দ এবং অহমিয়াভাষী মানুষজন সাধারণত তাদের বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে।
এই এআই ভিডিও এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় বামপন্থীরা। জরুরী ভিত্তিতে মামলা শোনার আর্জি জানানো হয়। সিপিআই(এম)-এর আবেদন, এই ধরণের উপাদান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে শত্রুতা, বর্জন এবং ভীতির পরিবেশকে আরও শক্তিশালী এবং প্রশমিত করে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন