নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করার পর বিতর্কের জেরে প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে বাধ্য হলেন উত্তরাখন্ডের বিজেপি সভাপতি এবং রাজ্যসভা সাংসদ মহেন্দ্র ভাট। তাঁর মন্তব্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই উত্তরাখণ্ড সহ দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপরেই চাপের মুখে বাধ্য হয়ে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।
রবিবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টে উত্তরাখন্ডের বিজেপি সভাপতি মহেন্দ্র ভাট জানিয়েছেন, তিনি কারও অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে ওই মন্তব্য করেননি। নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিজেপি নেতা বলেন, “যদি আমার মন্তব্য বা তাতে ব্যবহৃত কোনও শব্দে কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন আমি তার জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমা চাইছি।”
তবে ক্ষমা চেয়ে নিলেও ভাট জানিয়েছেন, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে প্রচার করেছে কংগ্রেস এবং বিভিন্ন মহল। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে ধরণের ভাষা প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে সেই ধরণের কোনও ভাষা তিনি প্রয়োগ করেননি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে যখন রাজনৈতিক বিতণ্ডা চলাকালীন এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িতে পরে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সভাপতির ভিডিও। এই ভিডিও ক্লিপ নিয়ে প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী দলের নেতা ও বিভিন্ন যুব সংগঠন। কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র প্রতিমা সিং এই প্রসঙ্গে জানানা, স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার দাবিতে সোচ্চার তরুণদের প্রতি শাসক দলের মনোভাবই বিজেপি সভাপতির ব্যবহৃত ভাষায় প্রতিফলিত হয়েছে।
উত্তরাখন্ড কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল বলেন, মহেন্দ্র ভাটের এই অপভাষাই প্রমাণ করে যে বিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে রাজ্যের মন্ত্রী প্রেমানন্দ আগরওয়ালকে এই ধরণের শব্দ প্রয়োগের কারণে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই ধরণের মন্তব্য থেকেই ছাত্রদের প্রতি বিজেপির মানসিকতা প্রমাণ হয়ে যায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন