

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে 'ভারতের ইতিহাসে তরুণদের প্রতি সবথেকে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবাপন্ন প্রধানমন্ত্রী' বলে অভিহিত করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। নীট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ছাত্র যুবদের দিনভর বিক্ষোভের পর একথা জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের ইতিহাসে তরুণদের প্রতি সবচেয়ে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবাপন্ন প্রধানমন্ত্রী—তিনি এতটাই তরুণ-বিদ্বেষী যে, ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও তিনি দাবি করতে পারেন না।"
ওই বিবৃতিতেই রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, "১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী এর শিকার হয়েছে। অথচ একজন দোষী ব্যক্তিকেও শাস্তি দেওয়া হয়নি। শাস্তি পেল কারা? সেই কঠোর পরিশ্রমী তরুণরা।"
তিনি আরও বলেন, "আর যখন এই তরুণরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলল—তখন তাদের কপালে জুটল লাঠিপেটা আর আটক। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে সেই অপরাধীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে—আর যারা ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলছে, তাদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ও মারধর করা হচ্ছে।"
রাহুল গান্ধী জানান, "এই সরকার তরুণদের ক্ষেত্রে কেবল ব্যর্থই হচ্ছে না—বরং তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে।"
সোমবার হাজারো চেষ্টা করেও ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। ‘চলো সংসদ’ অভিযান আটকাতে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেও আটকানো যায়নি নাছোড় বিক্ষোভকারীদের। গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন ভাবে সোমবারের সংসদ অভিযান আটকানোর চেষ্টা চালায় প্রশাসন। যদিও প্রশাসনের সেই প্রচেষ্টা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অগ্রাহ্য করেই সংসদ অভিযান চালায় ছাত্র যুবরা। নীট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত এক মাস ধরে চলছিল এই আন্দোলন।
সোমবার দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েও তাদের আটকানো যায়নি। কিছু সময়ের জন্য কিছু এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। সংসদ অভিযান আটকাতে নয়াদিল্লীর বিভিন্ন রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রণ করা হয় মেট্রো স্টেশন থেকে ঢোকা বেরোনো। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় তাদের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। তবুও বিক্ষোভকারীদের এক অংশ পৌঁছে যায় সংসদ ভবনের সামনে। তাদের আটকাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন