গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ‘চলো সংসদ’ অভিযান ছত্রভঙ্গ করতে কি ‘পেলেট গান’ ব্যবহার করা হয়েছিল? প্রাথমিক ভাবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও পরবর্তী সময়ে ওইদিন আহত একাধিক ব্যক্তির গায় ছররার ক্ষত দেখা যাওয়ায় সেই প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের রিপোর্টেও এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
গত সোমবার চলো সংসদ অভিযানের সময় ছররা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগ ওঠার পর ২২ জুলাই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবিকে ‘মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বিতর্ক থামেনি। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠার পর এই বিষয়ে খোঁজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে র্যাফের পক্ষে। যারা ওইদিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রদের মিছিল নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন ছিল।
ছররা গুলির আঘাত সম্পর্কে শুক্রবার ২৪ জুলাই ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে দিল্লীর এক সাংবাদিক জানিয়েছেন ২০ জুলাই তিনি ছররা গুলির আঘাতে আহত হয়েছেন এবং তাঁর শরীরে এখনও ৩০ টি ছররা গুলি ঢুকে আছে। ওই সাংবাদিক সরকারের কাছে এজন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি আউটলুকের এক ক্রীড়া সাংবাদিক। ফিনান্সিলায় এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সফদরজং হাসপাতাল থেকে দেওয়া গত ২২ জুলাইয়ের এক রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং সেই রিপোর্টে দেখা গেছে ওই সাংবাদিক চলো সংসদের দিন ছররা বন্দুকের আক্রমণে পড়েছিলেন।
নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত সোমবার চলো সংসদ অভিযানের ডাক দেয় সিজেপি। ওইদিনই কনট প্লেসের কাছে বিক্ষোভ মিছিল চলার সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক।
অন্যদিকে এদিনই ছররা গুলিকে আক্রান্ত এক প্রতিবাদীকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। শুক্রবার ওই যুবককে সঙ্গে নিয়ে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ছররা ছোড়ার কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু এই যে তার প্রমাণ। সরকার এবার মিথ্যে বলা বন্ধ করুক। ওরা ভারতের ভবিষ্যৎকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।
নিজের এক্স বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, "মোদীজি, আপনার এই পাপের জন্য দেশের তরুণদের কাছে ক্ষমা চান, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন এবং অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন