প্রকাশ্যেই দিল্লীর যন্তর মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে সমর্থন জানালেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী অরিজিৎ সিং। শুধু সমর্থন জানানোই নয়, তাঁর এক্স বার্তায় এক ভক্ত এসে বিরূপ মন্তব্য করায় বেশ রূঢ় ভাষাতেই তাঁকে জবাব দিয়েছেন অরিজিৎ সিং। বহু নেটিজেনই মনে করছেন কিছুটা স্বভাববিরুদ্ধভাবেই তাঁর ভক্তকে সচেতন করে দিয়েছেন এই শিল্পী।
গত সোমবার ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকে চলো সংসদ অভিযানে পুলিশি ভূমিকার নিন্দা করেন অরিজিৎ সিং। অভিযোগ, ওইদিন সংসদ অভিমুখে যাওয়ার সময় বিনা প্ররোচনায় ছাত্রদের ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়। এই ঘটনার পরেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) ক্ষোভ উগরে দেন এই শিল্পী।
নিজের পোষ্টে আন্দোলনকে সমর্থন করে তিনি লেখেন, পড়ুয়াদের ওরা মারধোর করছে। দিল্লি পুলিশ, আপনাদের লজ্জা হচ্ছে না? নেতা মন্ত্রীদের বলছি, এ সব কী হচ্ছে? আপনারা কি এবার নিজেদেরই ভগবান মনে করছেন? সব কিছু মনে রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, একটা কথা মনে রাখবেন, পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুবক।
সিজেপি আন্দোলনকে অরিজিৎ সিং-এর খোলাখুলি সমর্থনের পরেই তাঁর এক অনুরাগী লেখেন, আজ আপনার প্রতি আমার সমস্ত শ্রদ্ধা চলে গেন। আপনি বলেই দিয়েছেন যে আমার মতামতে আপনার কিছু যায় আসে না, এত দিন আপনার ভক্ত থেকে এটাই বোধহয় আমার প্রাপ্য হিল। কিন্তু এখন আপনাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঘৃণা করি।
তাঁর অনুরাগীর এই উত্তরের পরেই পাল্টা উত্তর দিয়ে অরিজিৎ সিং লেখেন, কেউ তাঁকে সম্মান করেন কিনা তা নিয়ে তিনি মোটেই ভাবিত নন। আপনি আমার ভক্ত বলে আমাকে আপনার মত করে কথা বলতে হবে তার কোনও মানে নেই।
এরপর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে অরিজিৎ লেখেন, একজন মানুষ হিসেবে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই ক্রুদ্ধ। আমি স্বাধীনভাবে কথা বলেছি। তার জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনার নিজের প্লে লিস্ট থেকে আমার সব গান মুছে ফেলতে পারেন। আমার অস্তিত্বও ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু আমার মতামতে কোনও পরিবর্তন আসবে না।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের পর অনলাইনে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি। যেখানে তিনি দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন, তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।
নীট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) ডাকে প্রথম বিক্ষোভ হয় গত ৬ জুন। এই বিক্ষোভ সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বহু ছাত্র ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ যোগ দেন। এরপর গত ২০ জুন থেকে সেখানে লাগাতার অবস্থানে বসেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এই অবস্থানে যোগ দেন। গত ২৮ জুন থেকে অবস্থান মঞ্চে ছাত্রদের দাবিতে সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। এখনও পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন