তিনদিনের একটানা ভয়াবহ বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশ। রাজ্যের প্রশাসনিক সূত্র অনুসারে গত কয়েকদিন ধরে একনাগাড়ে হওয়া বৃষ্টির কারণে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৬২ জন। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে ১৫৪টি গৃহপালিত পশুর। বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে লাগাতার বৃষ্টির কারণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীতাপুর।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে লখিমপুর খেরি, বাহারাইচ, বলরামপুর, অযোধ্যা, মহারাজগঞ্জ এবং গোরখপুরের জনজীবনও বৃষ্টির কারণে বিপর্যস্ত। সবথেকে বেশি মানুষ আহত হয়েছেন হরদোই, মৈনপুরী, শ্রাবস্তী অঞ্চলে। রাজ্যজুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে বহু ক্ষেতের ফসল। কমপক্ষে ৮টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে স্বাভাবিকভাবে যেখানে এই সময় উত্তরপ্রদেশে ৭.৬ মিমি বৃষ্টি হয় সেখানে গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৬৬.৫ মিমি। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৭৫ শতাংশ বেশি। রাজ্যের মোট ৭৫ জেলার মধ্যে ৫৬টি জেলাতেই গত দু’দিনে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে অতিবৃষ্টির পর রাজ্যের বিজেপি পরিচালিত সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। রবিবার এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) অখিলেশ যাদব জানান, “শহরগুলিতে জল জমে যাওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত নয়, বরং বিজেপির দুর্নীতির কারণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যর্থতা। নর্দমা ও পয়ঃপ্রণালী যদি ময়লায় আটকে যায়, তাহলে জল প্রবাহিত হবে কী করে? নানা ধরনের দূষণ এবং নর্দমার জল নদীতে গিয়ে মেশার কারণে পলি জমে নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নদীর উপচে পড়া জল আটকাতে বাঁধ নির্মাণ কোনো কার্যকর সমাধান নয়। ভবিষ্যতে আমরা নদী থেকে পলি অপসারণ ও নদীকে গভীর করার জন্য কাজ করব, যাতে নদীগুলো কোনো বাধা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং তার ভেতরের প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র নিজেদের শুদ্ধ করতে পারে।”
অখিলেশ যাদব তাঁর বার্তায় বলেছেন, “বিজেপি যাবে, নদী প্রাণ ফিরে পাবে।” তিনি আরও বলেন, “রাজধানী লখনউ হোক বা স্মার্ট সিটি গোরখপুর, বারাণসী এবং প্রয়াগরাজের মতো অন্যান্য বড় শহর, সর্বত্র পরিস্থিতি ভয়াবহ। ময়লার কারণে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে, নদীর তীরে বসবাসকারী এবং নদী-নির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মনে হচ্ছে, জলসম্পদ বাড়ানোর জন্য বিজেপি সরকারের চোখের জলও ব্যবহার করা হচ্ছে।”
রবিবার ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণ হিসেবে থাকা নিম্নচাপ ক্রমশ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার পর রবিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকায় (well-marked low-pressure area) পরিণত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যা উত্তরপ্রদেশের ওপর দিয়ে একই অভিমুখে এগোবে এবং আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইএমডি আরও জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাধারণত প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়; কিন্তু এটি দুর্বল হয়ে পড়ার সাথে সাথে বাতাসের গতিবেগ কমে যাবে এবং বৃষ্টির তীব্রতাও হ্রাস পাবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন