

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) যোগী রাজ্যে সবমিলিয়ে ২ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের। শুক্রবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় লক্ষ্য করা গেছে ৮৪ লক্ষ ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশে মোট নাম বাদ পড়েছে ২ কোটি ৫ লক্ষের।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নবদীপ রিনওয়া সাংবাদিক বৈঠক করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন। ২০২৪ সালে হওয়া লোকসভা নির্বাচনের সময় যোগী রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষে। এর মধ্যে ৭ কোটি ৩০ লক্ষ পুরুষ (প্রায় ৫৪ শতাংশ) এবং মহিলা রয়েছেন ৬ কোটি ৯ লক্ষ। ৪,২০৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
কমিশন জানিয়েছে, বাদ পড়াদের অর্ধেক মৃত বা স্থানান্তরিত বা রিপিটেড (একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে নাম থাকা) ভোটার ছিলেন। এছাড়া ১ কোটি ২ লক্ষের মতো ভোটার ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বাদ পড়াদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ভোটার। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিন তাঁরা নাম তোলার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, কয়েক লক্ষ যোগ্য ভোটার চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এঁদের অধিকাংশই মুসলিম এবং সমাজবাদী পার্টির জেতা কেন্দ্রগুলির ভোটার। কেবল লখনউতে (সদর) ২৮.০৮ শতাংশ ভোটার বাদ পড়েছে। এছাড়া সুলতানপুর, মুজ্জফফরনগর, মিরাট, মোরাদাবাদের মতো মুসলিম প্রধান এলাকাগুলিতে বিপুল সংখ্যক মুসলিমের নাম বাদ পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে এই কাজ করেছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন