UP SIR: উত্তরপ্রদেশে খসড়া তালিকায় নাম বাদের শীর্ষে লখনৌ, প্রয়াগরাজ - সবথেকে কম বুন্দেলখন্ড অঞ্চলে

People's Reporter: উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া বলেছেন, আগের তালিকার ১৫.৪৪ কোটির মধ্যে ২.৮৯ কোটি বা ১৮.৭০% ভোটার মৃত, স্থায়ী অভিবাসন বা একাধিক জায়গায় নামের কারণে বাদ পড়েছেন।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকী ছবি সংগৃহীত
Published on

উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, লখনউ, গাজিয়াবাদ, বলরামপুর এবং কানপুর জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটারের ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি। যদিও বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের ললিতপুর, হামিরপুর, মাহোবা, ঝাঁসি এবং চিত্রকূট জেলার খসড়া তালিকা থেকে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে।

এসআইআর-এর পর মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম। খসড়া তালিকায় আছে ১২.৫৫ কোটি ভোটারের নাম। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, আগেকার তালিকায় থাকা ১৫.৪৪ কোটি ভোটারের মধ্যে ২.৮৯ কোটি বা ১৮.৭০ শতাংশ ভোটারকে মৃত, স্থায়ী অভিবাসন বা একাধিক জায়গায় নাম থাকার কারণে খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।

লখনউ

৬ জানুয়ারি প্রকাশিত জেলাভিত্তিক খসড়া তালিকার তথ্য অনুযায়ী, লখনউ জেলায় ৩০.০৪ শতাংশ ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি। ভোটার সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ১২ লক্ষর কাছাকাছি। এই জেলার ভোটারের সংখ্যা অক্টোবর ২০২২-এর ৩৯.৯৪ লক্ষ থেকে সংশোধিত খসড়া তালিকায় কমে ২৭.৯৪ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। যে সংখ্যক ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি তার মধ্যে ১.২৮ লক্ষ মৃত ভোটার, ৪.২৮ লক্ষ ভোটারকে শনাক্ত করা যায়নি বা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৫.৩৬ লক্ষ স্থায়ী স্থানান্তরের কারণে।

প্রয়াগরাজ

প্রয়াগরাজে ২৪.৬৪ শতাংশ ফর্ম ফেরত আসেনি। ভোটার সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ১১.৫৬ লক্ষ। এই জেলার ভোটার সংখ্যা ৪৬.৯৩ লক্ষ থেকে কমে ৩৫.৩৭ লক্ষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৭৪ লক্ষ মৃত ভোটার, ৩.৬৭ লক্ষ ভোটারের খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ৪.৮৯ লক্ষ।

কানপুর

কানপুরের ক্ষেত্রে ২৫.৫০ শতাংশ ফর্ম ফেরত আসেনি। ভোটার সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ৯.০২ লক্ষ। ফলে এই জেলার ভোটার সংখ্যা ৩৫.৩৮ লক্ষ থেকে কমে ২৬.৩৬ লক্ষ হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে প্রায় ১.০৪ লক্ষ মৃত, ৩.১০ লক্ষ ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ৩.৯২ লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত।

আগ্রা

আগ্রা জেলায় ২৩.২৫ শতাংশ ফর্ম ফেরত আসেনি। সংখ্যার নিরিখে যা প্রায় ৮.৩৭ লক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, এই জেলার ভোটার সংখ্যা ৩৬.০০ লক্ষ থেকে কমে ২৭.৬৩ লক্ষ হয়েছে।

গাজিয়াবাদ

গাজিয়াবাদে সংগ্রহ করা যায়নি ২৮.৮৩ শতাংশ ফর্ম। ভোটার সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ৫.৮৩ লক্ষ। এই জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৮.৩৮ লক্ষ থেকে কমে ২০.২০ লক্ষ হয়েছে। দেখা গেছে, ফেরত না আসা ফর্মের মধ্যে প্রায় ৬৪,০০০ ভোটার মৃত, ৩.২০ লক্ষ নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ৩.৬০ লক্ষ নাম স্থায়ী স্থানান্তরের কারণে।

গৌতম বুদ্ধ নগর

গৌতম বুদ্ধ নগরে ২৩.৯৮ শতাংশ ফর্ম ফেরত আসেনি। ভোটার সংখ্যার নিরিখে যা প্রায় ৪.৪৭ লক্ষ। সংশোধিত খসড়া অনুযায়ী জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮.৬৫ লক্ষ। এক্ষেত্রেও ফেরত না আসা ফর্মের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত এবং খোঁজ না পাওয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত।

বলরামপুর

বলরামপুরে ২৫.৯৮ শতাংশ ফর্ম ফেরত আসেনি। ভোটার সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ৪.১১ লক্ষ। এই জেলার ভোটার সংখ্যা ১৫.৮৩ লক্ষ থেকে কমে ১১.১৮ লক্ষ হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেরত না আসা ফর্মের মধ্যে ৬৩,০০০ মৃত, ১.৬০ লক্ষ ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ১.৩৩ লক্ষ স্থায়ী স্থানান্তর।

উত্তর প্রদেশের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জেলাগুলোর মধ্যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বারাণসীতে ১৮.১৮ শতাংশ ফর্ম ফেরত আসেনি, গোরখপুরে ফেরত আসেনি ১৭.৬১ শতাংশ, রায়বেরেলিতে ১৬.৩৫ শতাংশ, আমেথিতে ১৮.৬০ শতাংশ, ইটাওয়ায় ১৮.৯৫ শতাংশ, কনৌজে ২১.৫৭ শতাংশ, সাহারানপুরে ১৬.৩৭ শতাংশ, মুজাফফরনগরে ১৬.২৯ শতাংশ, আলিগড়ে ১৮.৬০ শতাংশ এবং মথুরায় ১৯.১৯ শতাংশ। ফেরত না আসা ফর্মের সংখ্যার দিক থেকে ললিতপুর ৯.৯৫ শতাংশ নিয়ে তালিকার একেবারে নিচে আছে। এরপর আছে হামিরপুর (০.৭৮ শতাংশ), মাহোবা (১২.৪২ শতাংশ), বান্দা (১৩ শতাংশ), চিত্রকূট (১৩.৬৭ শতাংশ) এবং ঝাঁসি (১৩.৯২ শতাংশ)।

ছবি প্রতীকী
Uttar Pradesh SIR: যোগী রাজ্যে এসআইআর খসড়া তালিকায় বাদ ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম, শীর্ষে লখনৌ, প্রয়াগরাজ
ছবি প্রতীকী
WB SIR: মতুয়াদের নাম বাদ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ড্যামেজ কন্ট্রোলে রাজ্য বিজেপি

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in