বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭-এ। যার এখনও বেশ কয়েকমাস দেরি। কিন্তু তার অনেক আগেই উত্তরপ্রদেশে নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা সেরে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেল ইন্ডিয়া মঞ্চের দুই শরিক সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে। সূত্র অনুসারে, প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসের থেকে বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শর্তেই এই সমঝোতা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আসন রফা সূত্র নিয়ে আলোচনায় বসার কথা।
এর আগে রাজ্যের বর্তমান যোগী সরকারের সহযোগী এবং উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বেশ কিছুদিন থেকে দাবি করে আসছিলেন যে সমাজবাদী পার্টির বেশ কিছু নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তাঁর সেই দাবীমত কোনও ঘটনা না ঘটবার পর তিনি দাবি করেন কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির আসন সমঝোতা ভেঙে গেছে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের বিবাদের কারণে। যদিও এদিনই খবর পাওয়া গেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যেকার সমঝোতা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। যার ফলস্বরূপ দুই দলেরই ফলাফল ভালো হয় এবং ব্যাকফুটে চলে যায় বিজেপি। সেই সাফল্য ধরে রাখতেই রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও একসঙ্গেই লড়াই করতে চায় রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের দল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি জয়ী হয় ৩৭ আসনে এবং কংগ্রেস জয়ী হয় ৬ আসনে। উল্টোদিকে বিজেপি ৩৩ আসনে এবং আরএলডি ২ ও আপনা দল ১ আসনে জয়ী হয়। অন্য ১ আসনে জয়ী হয় আজাদ সমাজ পার্টি। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, লোকসভায় প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতেই বিধানসভায় আসন রফার সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। সেই হিসেবে কংগ্রেসের পাওয়া উচিত ১০২টি আসন। যদিও বিভিন্ন সূত্র অনুসারে, কংগ্রেস ২০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি চাইছে কমপক্ষে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। এক্ষেত্রে দুই পক্ষের রাজ্য নেতৃত্বই আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যাবে।
এক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজেন্দ্র পাল গৌতম কমপক্ষে ২০০ আসনের দাবি জানিয়েছেন। যদিও অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন তারা কোনোভাবেই ১১৫ থেকে ১২০ আসনের কম নেবেন না। তবে কংগ্রেসের এই দাবি প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।
কংগ্রেসের দলীয় সূত্র অনুসারে, নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি এবার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। অতীতে দেখা গেছে, এরকম বেশ কিছু মানুষকে প্রার্থী করা হয়েছে যারা দল থেকে টাকা পেয়েও সেই টাকা বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেননি। এবারের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন দেশের রাজনীতির জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই যারা গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে সক্ষম, সেরকম প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবার কথা ৪০৩ আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার নির্বাচন। ২০২২ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি জয়ী হয় ২৫৫ আসনে। এনডিএ সহযোগী আপনা দল এবং নিষাদ পার্টি জয়ী হয় যথাক্রমে ১২ এবং ৬ আসনে। অন্যদিকে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি জয়ী হয় ১১১ আসনে, আরএলডি ৮ আসনে, সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি ৬ আসনে, আপনা দলের কামেরাওয়াদি গোষ্ঠী ১ আসনে। এছাড়াও কংগ্রেস ও বিএসপি জয়ী হয় ২ ও ১ আসনে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন