যন্তর মন্তরে গত জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ডাকে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভে ছাত্রদের ওপর পুলিশের পেলেট গান আক্রমণে আহত এক যুবকের এফআইআর নিতে অস্বীকার করায় দিল্লীর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আক্রান্তকে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এর আগেও ছাত্র বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার সকালে আচমকাই আক্রান্ত যুবককে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে সাহিল লোচাব নামের ওই যুবক পেলেট গানের আঘাতে আহত হয়েছেন। যদিও তাঁর অভিযোগ, তিনি দু’বার এই বিষয়ে এফআইআর দায়ের করার জন্য থানায় গেলেও তাঁর এফআইআর নিতে অস্বীকার করে পুলিশ।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এফআইআর নথিভুক্ত না করে সংবিধান পদদলিত করা হচ্ছে। পেলেট গানে আহত যুবক এবং তাঁর মতো সব ছাত্রের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য এফআইআর করতে চাওয়া হলেও তার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
নিজের এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, "শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর এমন বর্বরতা কেবল বেআইনিই নয়—এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এই নিষ্ঠুরতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিক্ষার্থীদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা দেননি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও তাদের কাছে ক্ষমা চাননি। এখন সাহিল যখন ন্যায়বিচারের জন্য এফআইআর (FIR) দায়ের করতে চাইছেন, তখন তাকে তাও করতে দেওয়া হচ্ছে না। এভাবেই সংবিধান ও সাংবিধানিক অধিকারকে পদদলিত করা হচ্ছে।"
এদিন প্রথমে মন্দির মার্গ থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করা দাবি জানান রাহুল গান্ধী। তাঁর সেই দাবি মানা না হলে তিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে ডিসিপির সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে রাহুল গান্ধীর দাবি মানা না হলে তিনি এফআইআর গ্রহণের দাবিতে ধর্নায় বসেন।
এদিন রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ঘটনায় এফআইআর গ্রহণ না করা হবে ততক্ষণ তিনি ধর্না চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর থানায় ধর্না দেবার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সেখানে কংগ্রেস কর্মীরা আসতে শুরু করেন।
২০ জুলাই-এর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পেলেট গান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও পরে জানা গেছে ওইদিন বিক্ষোভের সময় পেলেট গান চালানো হয়েছিল। যে দাবি পুলিশ মেনেও নিয়েছে। জানা গেছে, পেলেট গানের আঘাতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। যার মধ্যে এখনও পাঁচ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এঁরা সকলেই দিল্লীর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। এঁদেরই একজন সাহিল লোচাব। ওইদিন এক সাংবাদিকও পেলেট গানের আঘাতে আহত হন।
গত ২৪ জুলাই ছররা গুলিকে আক্রান্ত এক প্রতিবাদীকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। ওই যুবককে সঙ্গে নিয়ে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ছররা ছোড়ার কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু এই যে তার প্রমাণ। সরকার এবার মিথ্যে বলা বন্ধ করুক। ওরা ভারতের ভবিষ্যৎকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।
এই প্রসঙ্গে নিজের এক্স বার্তায় রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, "মোদীজি, আপনার এই পাপের জন্য দেশের তরুণদের কাছে ক্ষমা চান, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন এবং অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন