

সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন না উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম। সোমবার শীর্ষ আদালত এই দু’জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে। ২০২০ উত্তর পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় এঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ [Unlawful Activities (Prevention) Act – UAPA] ধারায় মামলা চলছে। যদিও এই মামলায় অন্য অভিযুক্ত গুলফিসা ফতিমা, মীরন হায়দর, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদের জামিন এদিন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত।
আদালত জানিয়েছে, উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম কমপক্ষে এক বছর পর ফের জামিনের আবেদন করতে পারবে। সুরক্ষিত সাক্ষীদের জেরা সম্পন্ন হলে অথবা এই আদেশ জারির সময় থেকে এক বছর পূর্ণ হলে উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম আবারও জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে তাঁদের আবেদন নতুন আবেদন হিসেবেই বিবেচ্য হবে।
সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায়, সব অভিযুক্তের আবেদন আলাদা আলাদা করে আদালত পর্যালোচনা করেছে। বেঞ্চ জানিয়েছে, উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় ভিন্ন অবস্থানে আছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাখিল করা তথ্য প্রমাণে আবেদনকারী উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলার এই পর্যায়ে তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
এর আগে এই মামলার শুনানিতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দাঙ্গা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা ছিল না, বরং ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর পরিকল্পিত, পূর্ব পরিকল্পিত এবং সুপরিকল্পিত আক্রমণ ছিল। শুনানির পর গত বছরের ১০ ডিসেম্বর এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত।
দিল্লি পুলিশের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বাল, অভিষেক মনু সিংভি, সিদ্ধার্থ দাভে, সালমান খুরশিদ এবং সিদ্ধার্থ লুথরা সওয়াল করেন।
দিল্লি দাঙ্গার বৃহত্তর চক্রান্তে যুক্ত থাকার অভিযোগে শারজিল ইমাম গ্রেপ্তার হন ২৮ জানুয়ারি ২০২০। এই মামলায় আটক অন্যান্যরা হলেন উমর খালিদ ( গ্রেপ্তার - ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০), আতাহার খান (গ্রেপ্তার - ২৯ জুন ২০২০), খালিদ সফি (গ্রেপ্তার - ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০), মহম্মদ সালেম খান (গ্রেপ্তার - ২৪ জুন ২০২০), শিফা-উর রহমান (গ্রেপ্তার - ২৬ এপ্রিল, ২০২০), মীরন হায়দার (গ্রেপ্তার - ১ এপ্রিল, ২০২০), গুলফিসা ফতিমা (গ্রেপ্তার - ৪ এপ্রিল, ২০২০) এবং শাদাব আহমেদ (গ্রেপ্তার - ১১ জুন, ২০২০)।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন