আবারও বিতর্ক দানা বাধলো ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (National Testing Agency – NTA)-কে নিয়ে। রবিবার এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন – ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্টস (University Grants Commissiion – National Eligibility Tests - UGC-NET)-এ তিনটি পেপার নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ওই তিনটি বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
যে তিনটি বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা হল ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজবিজ্ঞান (English, Commerce and Sociology)। এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। ইউজিসি-নেট ৮৭ টি বিষয়ে নেওয়া হয় এবং এর মাধ্যমে জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (Junior Research Fellowship – JRF), অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর (Assistant Professor) এবং পিএইচডি-র (PhD) জন্য বাছাই করা হয়।
রবিবার রাত ৮.৪৯ মিনিটে এনটিএ-র এক্স হ্যান্ডেল (পূর্বতন ট্যুইটার) থেকে পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে এক বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে বার্তায় এনটিএ জানিয়েছে, “ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটি থাকার বিষয়ে এনটিএ (NTA)-র কাছে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছিল। এই ত্রুটিগুলি খতিয়ে দেখার জন্য এনটিএ একটি কমিটি গঠন করে এবং সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, একটি সুষ্ঠু ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিষয়গুলির পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করা হবে।”
এনটিএ-র বিজ্ঞপ্তিতে নতুন পরীক্ষা সূচিও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শিফট ১-এ নেওয়া হবে ইংরেজি পরীক্ষা, ওইদিনই শিফট ২-তে নেওয়া হবে বাণিজ্যের পরীক্ষা এবং ১০ সেপ্টেম্বর শিফট-১-এ নেওয়া হবে সমাজবিজ্ঞানের পরীক্ষা।
নিজেদের ট্যুইট বার্তায় পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত দু’পাতার একটি চিঠিও প্রকাশ করেছে এনটিএ। যেখানে বলা হয়েছে, কমিটি দেখেছে তিনটি প্রশ্নপত্রে বহু তথ্যগত, মুদ্রণগত এবং অনুবাদগত ত্রুটি ছিল। যার মধ্যে বিশিষ্টদের নামের ভুল বানান, বইয়ের শিরোনামের বিকৃতি, প্রশ্নের শব্দচয়নে ভুল, ব্যাকরণগত ত্রুটি, লিঙ্গ ও বচনের সামঞ্জস্যহীনতা ইত্যাদি বিষয় ছিল। এছাড়াও আগের পরীক্ষায় থাকা একাধিক প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিও ছিল। তাই একটি সুষ্ঠু ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষার স্বার্থে এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে।
এনটিএ জানিয়েছে, এই তিনটি বিষয়ের নতুন পরীক্ষার জন্য বাকি ৮৪টি বিষয়ের ই-সারটিফিকেট দেওয়ায় ক্ষেত্রে কোনও দেরি হবে না এবং এই পুনঃপরীক্ষার ফলে আসন সংখ্যা কমবে না।
সম্প্রতি ইউজিসি নেট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশ সাম্প্রতিক সময়ের বৃহত্তম ছাত্র আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে। ককরোচ জনতা পার্টি, এসএফআই, এআইএসএফ, আইসা সহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের আন্দোলনের জেরে এই ঘটনায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। যদিও তার পরেও আরও একবার পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাঠগড়ায় এনটিএ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন