তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়ো চমক। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলকে বিস্মিত করে আচমকাই ক্ষমতাসীন ডিএমকে-তে যোগ দিলেন তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রভাবশালী প্রাক্তন এআইএডিএমকে নেতা ও পনীরসেলভম (O. Panneerselvam)। যিনি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। শুক্রবার চেন্নাইতে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের (M K Stalin) উপস্থিতিতে তিনি ডিএমকে-তে যোগদান করেন।
ডিএমকে-তে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পনীরসেলভম বলেন, তামিলনাড়ুর মানুষ চান এবারের নির্বাচনে এম কে স্ট্যালিন জয়লাভ করুন। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে ওপিএস নামেই পরিচিত বর্ষীয়ান পনীরসেলভম। জানা গেছে আসন্ন নির্বাচনে তিনি থেনী জেলার বদিয়ানয়াকান্নাউর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদিনই ডিএমকে-তে যোগ দেবার আগে তিনি তাঁর বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন। তাঁরই সঙ্গে বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েছেন তাঁর অনুগামী উসিলামপট্টির বিধায়ক পি আয়াপ্পান।
তিনি আরও বলেন, অমিত শাহ আমাকে জানিয়েছিলেন, এই নির্বাচনে জয়ের জন্য ডিএমকে খুবই শক্তিশালী। আমি তাঁকে এআইএডিএমকে-র বিবদমান গোষ্ঠীগুলিকে একত্রিত করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন, পালানিস্বামী তাঁর কথা শোনেননি। আসলে পালানিস্বামী একজন উদ্ধত ও স্বৈরাচারী প্রকৃতির মানুষ।
গত কয়েকমাস ধরেই ডিএমকে-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন পনীরসিলভম। অতি সম্প্রতি তিনি এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে গিয়ে দেখাও করেন। এরপর আজ তিনি ডিএমকে-তে যোগ দিলেন। যদিও তাঁর পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। প্রধানত জয়ললিতা ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর পরিচিতি এবং অতীতে যতবার আইনগত কারণে জয়ললিতাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে ততবারই তিনি তাঁর বিশ্বস্ত পনীরসেলভমকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। কয়েক মাস আগেই তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী আর বৈথিলিঙ্গম এবং মনোজ পান্ডিয়ান বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ডিএমকে-তে যোগ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে এনডিএ শিবির থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন পনীরসেলভম। তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপি তাঁকে অপমান করেছেন। যদিও ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে তিনি এনডিএ-তে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তাঁকে ফেরাতে রাজী হননি পালানিস্বামী।
২০২২ সালের জুলাই মাসে পনীরসেলভম এবং তাঁর অনুগামীদের এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তিনি রমানাথপুরম কেন্দ্র থেকে বিজেপির সহযোগী নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন