

মার্কিন শুল্কের ধাক্কায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে তামিলনাড়ুর বয়ন শিল্পে। গত অক্টোবর মাস থেকে তিরুপ্পুরের বয়ন শিল্পে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকার। গত আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেবার পর থেকেই এই অঞ্চলের বয়ন শিল্পে নতুন বরাত আসা প্রায় বন্ধের মুখে। তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর অঞ্চল থেকে রাজ্যের রপ্তানি করা মোট পণ্যের ৫৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা হয়।
তিরুপ্পুরের বয়ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকহাজার অভিবাসী শ্রমিকও এই ঘটনায় বিপদে পড়েছেন। এই শ্রমিকদের একটা বড়ো অংশই বিহার, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ অথবা অন্যান্য প্রদেশ থেকে আগত। কিন্তু বরাত না থাকায় অধিকাংশের হাতেই কাজ নেই। এখনও পর্যন্ত এর ফলে বড়ো সংখ্যায় ছাঁটাই না হলেও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হলে বহু কর্মীকে কাজ হারাতে হতে পারে।
তিরুপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (TEA)-এর মতে, ভারতের বস্ত্র রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং তুলা নিটওয়্যার চালানের ৯০ শতাংশই তিরুপুর থেকে হয়। ২০২৪-২৫ সালে এই শহর থেকে রপ্তানির পরিমাণ ৩৯,৬১৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
যদিও গত আগস্ট মাসের পর থেকেই রপ্তানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের এক প্রতিবেদনে দ্য প্রিন্ট জানিয়েছিল, তিরুপুরের ২,৫০০টি নিটওয়্যার ইউনিটের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অর্ধেকেরও বেশি তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এক কারখানার মালিক এস. কৃষ্ণমূর্তি জানিয়েছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ক্রেতারা অর্ডার দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।”
ডেকান হেরাল্ড তাদের এক প্রতিবেদনে তিরুপ্পুর এক্সপোরটারস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুমার দুরাইস্বামীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তিরুপ্পুর নীটওয়ার ক্লাস্টার প্রতি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। যা বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ। কারণ নতুন করে অর্ডার আসছে না। কেউই ৫০ শতাংশ শুল্কের ভার বহন করতে পারছে না। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে।
গত ১৭ অক্টোবর বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর মাত্র ৭ সপ্তাহের মধ্যে তিরুপ্পুরের বয়নশিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০ হাজার কর্মীদের অধিকাংশের হাতেই কাজ নেই।
এই প্রসঙ্গে সিআইটিইউ তিরুপ্পুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক জি সম্পথ জানিয়েছিলেন, এই অঞ্চল জুড়ে বয়ন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে।
এই মুহূর্তে তিরুপ্পুরের বয়ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন অর্ডার না এলে এবং পণ্য পাঠানো না গেলে তারা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন। এই ক্রেতারা সস্তায় পণ্যের জন্য অন্য দেশের দিকে ঝুঁকতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে একবার ক্রেতা হাতছাড়া হয়ে গেলে তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনা কঠিন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন