

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৬ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে ‘কালা দিবস’ পালনের ডাক দিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। ওই দিন তামিলনাড়ুর সব বাড়িতে এবং সরকারি দপ্তরে কালো পতাকা ওড়ানোর ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গিত বিতর্কের জেরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটতে চলেছে দক্ষিণের এই রাজ্য।
দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালাতে পারে বিজেপি। এই ইস্যুতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডি এম কে প্রধান এম কে স্ট্যালিন।
আসন পুনর্বিন্যাসের প্রসঙ্গে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন জানিয়েছেন, রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে, কেন্দ্রীয় সরকার স্বেচ্ছাচারীভাবে সংবিধান সংশোধন করতে চাইছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলো ছাড়াও অন্য কোনও রাজ্যের স্বার্থও যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বিরাট আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও একমত বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদে এই বিষয়ে বিশেষ অধিবেশন হতে চলেছে। যে অধিবেশনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস করাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সরব হতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই তামিলনাড়ু জুড়ে ১৬ এপ্রিল কালা দিবসের ডাক দিয়েছেন ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিন।
কেন্দ্র বহুদিন ধরেই লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে নতুন অধিবেশনেই সে বিষয়ে এগোতে চলেছে সরকার। যে বিষয়ে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধীদলের আশঙ্কা ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধামত আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে বিজেপি। কারণ, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে সেক্ষেত্রে দক্ষিণের রাজ্য বা অন্যান্য একাধিক রাজ্যের তুলনায় গো বলয়ের আসন সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে নিজেদের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করে নিতে পারবে বিজেপি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন