

সংসদীয় ক্ষেত্রের পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গে ডিএমকে-র পূর্বঘোষিত অবস্থানেই কার্যত সম্মতি জানালেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। বুধবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তিনি এক প্রস্তাব পেশ করেন। যে প্রস্তাবে কেন্দ্রের কাছে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ স্থায়ীভাবে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।
২০২৬ সালের 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল'-টি গত ১৬ এপ্রিল লোকসভায় পেশ করা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তা পাশ হয়নি। এই বিলের উদ্দেশ্য লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং ২০২৩ সালে পাস হওয়া 'মহিলা সংরক্ষণ বিল'-এর বাস্তবায়ন দ্রুত করা।
তামিলনাড়ু সরকারের এদিনের প্রস্তাবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যার যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার কারণে সংসদে তাদের কণ্ঠস্বর বা প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া উচিত নয়। এর আগেই তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলিও একই দাবি জানিয়েছিল।
এদিনের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও একটি সাংবিধানিক সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে লোকসভার সদস্য সংখ্যা ৫৫০ থেকে ৮৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে এমন পদক্ষেপ সেইসব রাজ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে যারা জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জাতীয় নির্দেশিকা মেনে চলেছে।
বিধানসভায় পেশ করা প্রস্তাবের মাধ্যমে তামিলনাড়ু সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চারটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। চার দাবির মধ্যে জোর দেওয়া হয়েছে লোকসভার আসন ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ রাখার এবং অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করার।
প্রস্তাবের দাবিতে বলা হয়েছে, প্রথমত, লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩-এর মধ্যেই স্থায়ীভাবে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজ্যগুলোর মধ্যে লোকসভার আসন বণ্টনের বর্তমান অনুপাত অপরিবর্তিত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, জনসংখ্যা ও রাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান ২.২:১ অনুপাত বজায় রাখতে হবে এবং চতুর্থত, বর্তমান ৫৪৩টি নির্বাচনী এলাকার ভিত্তিতেই আসন্ন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন যে, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে আর দেরি করা উচিত নয়। "মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কোনো অনুগ্রহ বা ছাড় নয়, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।" "বর্তমান ৫৪৩টি নির্বাচনী কেন্দ্রের ভিত্তিতেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত। এই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে আর দেরি করা ঠিক হবে না। তামিলনাড়ুতে পুরুষদের তুলনায় মহিলারাই বেশি ভোট দিয়েছেন। মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়। তাই আর কোনো দেরি না করেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "অতীত ও বর্তমানে মহিলারা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আমার বোন, বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলা ও মায়েদের কারণেই আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।"
বিধানসভায় টিভিকে নেতা ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এই প্রস্তাব প্রসঙ্গে ডিএমকে জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আনা প্রস্তাবটি তাঁদের দলের উত্থাপিত যুক্তি ও দাবিরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, "হয়তো তিনি এখন এটাই চেয়েছিলেন। তাই আমরা যা বলেছিলাম, তিনি সেটাই অনুসরণ করছেন... গত সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যা ঘটেছিল এবং যা অব্যাহত রাখা উচিত, তা নিয়ে হয়তো তাঁরা আলোচনা করেছেন। সম্ভবত সেই কারণেই তিনি এ বিষয়ে প্রস্তাব এনেছেন।"
কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল মহিলা সংরক্ষণ বিলের প্রতি সমর্থন জানালেও, সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে এবং সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলো মহিলা সংরক্ষণ বিষয়টিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করার দাবিও তুলেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন