দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন দক্ষিণপন্থী নেটপ্রভাবী স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। তাঁর দাবী দিল্লি পুলিশ তাকে ‘অবৈধ’ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর হেবিয়াস কর্পাস আবেদন জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজী হয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় এই বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। গত জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় এক আন্দোলনকারীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দেবার কথা নিজেই এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন এই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ।
স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের আইনজীবী উমেশ শর্মা আবেদনে জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের গ্রেপ্তার বেআইনি এবং তিনি তিনদিন ধরে হেফাজতে আছেন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত। দিল্লি হাইকোর্টে আজ বিষয়টি উত্থাপনের পর প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি শুনতে সম্মত হয়েছেন।
স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে হামলা, তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার ও প্রতিরোধ) আইন, শিশুদের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ আইন (পকসো আইন)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১১৫(২) (সাধারণ আঘাত), ১২৬(২) (অন্যায়ভাবে আটক)-এর অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
গত সপ্তাহে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ জানান, তিনি কীভাবে যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় এক নিশু আজাদের বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। বিস্তারিতভাবে সে কথা জানানোর পর তিনি দাবী করেন, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র ফোন করার পরেই পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়। এছাড়াও ওই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে চিরাগ পাসোয়ানের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি আছে বলে জানান। তিনি জানান, স্বয়ং মোদীজীও তাঁকে চেনেনে। স্বতন্ত্র বলেন, তাঁর ওপর হনুমানজীর আশীর্বাদ আছে। তিনি নিশু আজাদের বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েও জেলের বাইরে আছেন।
এই ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসার পরেই দিল্লীর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানাতে যান সিজেপি সদস্যরা। পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সিজেপি সদস্যরা। এরপরেই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে গ্রেপ্তার করা হবে। ওইদিনই বুলন্দশহর থেকে আটক করা হয় তাঁকে।
প্রাথমিকভাবে তাঁকে এক দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত দেওয়া হয়। আজ সোমবার তাঁকে ফের আদালতে পেশ করার কথা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন