

এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানালো সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এই সংক্রান্ত এক মামলায় শীর্ষ আদালত মৌখিকভাবে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অর্থ কোনোভাবেই নাগরিকত্বের মর্যাদা হারানো হয়। কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসুর দায়ের করা এক মামলায় একথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রসেনজিৎ বসুর দায়ের করা আবেদনের শুনানি করে। এই প্রসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, বিহার এসআইআর রায়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল নাগরিকত্ব নির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ ভারতের নির্বাচন কমিশন নয়। শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কখনই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যেতে পারেনা। ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্বের অবস্থা নির্ধারণ করার ক্ষমতা নেই।
এদিন আদালতে প্রসেনজিৎ বসুর পক্ষে অ্যাডভোকেট গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত ৩৪ লক্ষ আপিল বিচারাধীন রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল থেকে ২ জন বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। এখনও পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক আপিলের নিষ্পত্তি (প্রায় ৩৮ হাজার) হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ আপিলই মঞ্জুর হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যদিও আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের গণবন্টন ব্যবস্থা (পিডিএস) এবং অন্নপূর্ণা যোজনার মত কল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সেইসব ব্যক্তিদের জাতিগত শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে না।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, আমরা এই বিষয়ে সচেতন এবং আমাদের বিহার এসআইআর রায়ে আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের যে কোনও সিদ্ধান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। যতক্ষণ তা না হবে ততক্ষণ স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রায় স্পষ্টতই সংবিধানের ধারা ৯, ১০, ১১ এবং ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মর্যাদা অনুসারে নির্বাচন কমিশন কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়…ভোটার তালিকার ওপর ইসিআই-এর নিয়ন্ত্রণ আছে। তারা কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্বের মর্যাদা নষ্ট হয় না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন