

লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ ভারত বিরোধী শক্তির পক্ষ নিচ্ছেন। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ করেছেন বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ‘আরএসএস’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশকারী মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের – ইউএসসিআইআরএফ (United States Commission on International Religious Freedom – USCIRF) একটি প্রতিবেদনকে রাহুল গান্ধী ‘সমর্থন’ জানিয়েছেন।
এদিন রাহুল গান্ধীর পদত্যাগ দাবি করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, এই বিষয়টি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদার সঙ্গে জড়িত। রাহুল গান্ধী আবারও দেখিয়েছেন যে, তিনি যাকে ‘মহব্বত কা দুকান’ বলেন, তাতে কেবল ভারত-বিরোধী পণ্যই রয়েছে। তিনি ভারতকে কলঙ্কিত করতে চাওয়া শক্তিগুলোর পক্ষ নিতে বদ্ধপরিকর। ভারত আরও ভালো একজন বিরোধী দলনেতা পাওয়ার যোগ্য।
এক বিদেশি সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করার জন্য রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি বিদেশি সংস্থার এমন এক প্রতিবেদন কেন আমরা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেব না? যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন নিয়ে কেন বিরোধী দলনেতা ঘুরবেন? ভাটিয়া আরও জানান, কংগ্রেস তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ওই প্রতিবেদন শেয়ার করেছে। কিন্তু রাহুল গান্ধী কি আদৌ সেই প্রতিবেদন পড়েছেন?
এদিন ‘র’-এর প্রশংসা করে গৌরব ভাটিয়া বলেন, এই গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশের সেবা করেছে এবং পাকিস্তানের মতো শত্রুরা একে ভয় পায়। যদি কোনো মার্কিন সংস্থার প্রতিবেদনে 'র'-কে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়, তা আসলে একটি সম্মানের প্রতীক। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাটি কার্যকর এবং অন্যের জন্য ভীতিকর।
গৌরব ভাটিয়া এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ২০২৫ সালেও একই ধরনের একটি প্রতিবেদন এসেছিল এবং স্বয়ং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তা প্রত্যাখ্যান করে। তবুও রাহুল গান্ধী এমন একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তা ব্যবহার করছেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক টুইটের মাধ্যমে কংগ্রেস দল USCIRF-এর এক প্রতিবেদনকে সমর্থন জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং আরএসএস সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপের পরেই বিজেপি-র পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণই মনগড়া ও অবিশ্বস্ত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এর পর্যবেক্ষণসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করতে গিয়ে কংগ্রেস কার্যত ভারতের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে।
সম্বিত পাত্রের মন্তব্যের উত্তরে কংগ্রেস ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ করে জানায় যে, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর সর্দার প্যাটেল আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। কংগ্রেস আরও যুক্তি দেয় যে, এই সংগঠন দেশের জাতীয় সংহতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি হুমকি স্বরূপ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন