

ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আবারও রাহুল গান্ধীর নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার এই চুক্তি প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর সরকার শুল্ক নিয়ে দেশের মানুষকে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দিচ্ছেন। যদিও রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগের পরেই রাহুল গান্ধী অর্থনীতি বোঝেন না বলে দাবি করেছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) রাহুল গান্ধী লেখেন ভারতের পোষাক শিল্পে রফতানির জন্য আমেরিকার কাছে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। যেখানে পোশাক রফতানির জন্য বাংলাদেশের ওপর কোনও শুল্ক নেই। অথচ দুই দেশের জন্য শর্ত একই, আমেরিকান তুলো আমদানি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকান তুলো আমদানি করলে দেশের তুলো চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আবার তুলো আমদানি না করলে বস্ত্র শিল্পের ক্ষতি হবে। তাঁর আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ সম্ভবত ভারত থেকে তুলো আমদানি বন্ধ করে দেবে। যার ফলে দেশের তুলো চাষিরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স বার্তায় লিখেছেন, ১৮ শতাংশ বনাম ০ শতাংশ। আসুন আপনাদের ব্যাখ্যা করে বোঝাই কীভাবে বিশেষজ্ঞ মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রীসভা এই বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কীভাবে ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ভারতের তুলো চাষি এবং বস্ত্র রফতানিকারকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশকে শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একমাত্র শর্ত তারা আমেরিকান তুলো আমদানি করবে। যখন সংসদে আমি বাংলাদেশকে দেওয়া এই ছাড়ের বিষয়ে প্রশ্ন করি তখন মোদী সরকারের একজন মন্ত্রী উত্তর দেন, আমরা যদি একই সুবিধা চাই তাহলে আমাদের আমেরিকা থেকে তুলো আমদানি করতে হবে। তাহলে কেন এই তথ্য এতদিন দেশের কাছে গোপন করে রাখা হয়েছিল?
রাহুল গান্ধীর দাবি, এই চুক্তি লক্ষ লক্ষ মানুষকে বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক দুর্দশার দিকে ঠেলে দেবে। জাতীয় স্বার্থে চুক্তিতে রফতানিকারক এবং তুলোচাষী – দু পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত করার দরকার ছিল। কিন্তু তার বদলে, নরেন্দ্র "সারেন্ডার" মোদী এবং তার মন্ত্রীরা এমন একটি চুক্তি করেছেন যা দুই ক্ষেত্রের জন্যই গভীর ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।
রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পরেই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন দেশের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস আসলে হতাশ। ভুল তথ্য এবং ভুয়ো দাবি করা ছাড়া তাদের আর কোনও পরিকল্পনা বা সমাধান নেই। আমাদের সমালোচনা করার কোনও অর্থ হয়না। কংগ্রেস ভুল এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশের কৃষকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, রাহুল গান্ধীর অর্থনীতি সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। তিনি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ট্যুইট করেন। তিনি সত্যি থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে। ভারতের তুলো চাষের ক্ষমতা এবং চাহিদা দুইই বাড়বে। উপকরণের আমদানি এবং রফতানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণের এই নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে বহুদিন থেকে চলছে।
পীযূষ গোয়েল আরও বলেন, আমেরিকা প্রতি বছর ৪৮০ মিলিয়ন পাউন্ড বেল তুলো উৎপাদন করে। যার দাম ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। যা ভারতের তুলো চাষিদের কোনও ক্ষতি করতে পারবেন না। আমেরিকা বছরে ৪৫ হাজার কোটি টাকার তুলো রপ্তানি করে। আমার ধারণা, ভারতের একটি অঞ্চলে এর চেয়েও বেশি তুলো উৎপাদন হয় এবং দেশে তুলোর চাহিদা অনেক বেশি এবং ক্রমশ তা বাড়ছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন