সব জল্পনায় জল ঢেলে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন প্রয়াত অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। শনিবার বিকেল ৫ টায় তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। গত বুধবার ২৮ জানুয়ারি বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর পর এনসিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেসব জল্পনা চলছিল আপাতত তাতে ইতি টানলেন সুনেত্রা স্বয়ং। তিনিই মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।
যদিও এনসিপি (এপি) দলের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন এনসিপি (এসপি) গোষ্ঠীর প্রধান বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ার। শনিবার সকালে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমার কাছে এই বিষয়ে কোনও তথ্য নেই। তাঁর দলের বিষয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন…। আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। এরকম যে ঘটছে তা আমি, আমার দল বা পরিবারের কেউ জানতাম না।
এনসিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে গতকাল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জানান, উপমুখ্যমন্ত্রী পদ এনসিপি-র পক্ষ থেকে কাকে দেওয়া হবে সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের সরকার এবং বিজেপি সেই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাবে।
বর্তমানে রাজ্যসভা সাংসদ সুনেত্রা পাওয়ার উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পর আগামী ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে রাজ্য বিধানসভার কোনও আসন থেকে নির্বাচিত হতে হবে। সেক্ষেত্রে অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া বারামতী আসন থেকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
জানা গেছে, উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পর তাঁকে আপাতত রাজস্ব এবং ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রয়াত অজিত পাওয়ারের হাতে ছিল অর্থ পরিকল্পনা, রাজ্য আবগারি, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ (অতিরিক্ত দায়িত্ব), সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও ওয়াকফ (অতিরিক্ত দায়িত্ব)। যেহেতু রাজ্য বাজেট আসন্ন তাই আপাতত অর্থ দপ্তর নিজের হাতেই রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
সুনেত্রা পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নেবার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত মিলন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগে থেকেই দুই গোষ্ঠীর মিলে যাবার প্রশ্নে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগামীতে এনসিপি আবার এক হবে।
যদিও অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা তা নিয়ে জোর চর্চা হলেও আপাতত তার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ সুনেত্রা পাওয়ারের সরকারে যোগ দেবার সিদ্ধান্তে এটা স্পষ্ট যে এনসিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী আপাতত মহাযুতি শিবিরের অংশ হিসেবেই থাকছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন