Subhas Chandra: ২২ হাজার কোটির ঋণ মিটলো সাড়ে ৬ কোটিতেই, সুভাষ চন্দ্রের আবেদনে সাড়া এনসিএলটি-র

People's Reporter: জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা, বিজেপি ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সাংসদ সুভাষ চন্দ্র বিপুল অঙ্কের ঋণ নেন এবং পরে ঋণখেলাপী হন। তাঁর এই ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকায়।
জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র
জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র ফাইল ছবি, এক্স হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহীত
Published on

২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মিটে গেল মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকায়। নামমাত্র টাকায় বিরাট অঙ্কের এই ঋণ মিটিয়ে দেবার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (National Company Law Tribunal)। জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজেপি ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সাংসদ সুভাষ চন্দ্র বিপুল অঙ্কের এই ঋণ নিয়েছিলেন এবং পরে তিনি ঋণখেলাপী হন। তাঁর এই ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকায়।

এনসিএলটি-র (NCLT) এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘আর্থিক পরিভাষায়, কোনো পাওনাদারের পাওনা অর্থ বকেয়া থাকার সময় ঋণগ্রহীতা যদি তার কেবল একটি অংশ পরিশোধ করেন, তবে বকেয়া ও পরিশোধিত অর্থের মধ্যকার পার্থক্যকে শতাংশের হিসেবে প্রকাশ করলে তাকে ‘হেয়ারকাট’ (haircut) বলা হয়।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ঋণ পরিশোধের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে; এই পরিকল্পনার আওতায়, প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার অনুমোদিত দাবির বিপরীতে পাওনাদাররা মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা পাবেন। যা শুধু ‘হেয়ারকাট’ নয়, বরং এটি আক্ষরিক অর্থেই ‘টনসার’ (মাথা ন্যাড়া করে ফেলার মতো চরম ছাঁটাই)—যা ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপ্টসি কোড, ২০১৬’-কে সম্পূর্ণ উপহাস করে।’

জয়রাম রমেশের এক্স বার্তা
জয়রাম রমেশের এক্স বার্তাজয়রাম রমেশের এক্স হ্যান্ডেল থেকে স্ক্রিনশট

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের সদস্য নীলেশ শর্মা (জুডিশিয়াল)-কে এই মামলায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনিই সুভাষ চন্দ্রের করা আবেদনে সিলমোহর দিয়েছেন। ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড-এর ধারা ১১৪ অনুসারে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে গত ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার। একাধিক ঋণদাতা এই প্রস্তাব মানতে রাজী না হলেও তাদের দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় সবথেকে বড়ো ঋণদাতা এলআইসি হাউসিং এনসিএলটি-র প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করে এবং জানায় তাদের মোট ঋণের অনুপাতে প্রস্তাব অনুসারে যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে তা ‘বেআইনি ও অসম্ভব’। যদিও তাদের দাবিও খারিজ হয়ে গেছে। এই নিষ্পত্তির পর এলআইসি হাউসিং-এর প্রাপ্য ১৩২২ কোটি টাকার মধ্যে তারা পাবে ৩৯ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের মাত্র ০.০২৮ শতাংশ ফেরত পাবে এলআইসি হাউসিং।

প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ এবং জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র আদালতে জানিয়েছিলেন, তাঁর পক্ষে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে তিনি খুব বেশি হলে সাড়ে ৬ কোটি টাকা শোধ করতে পারবেন। মঙ্গলবার সুভাষ চন্দ্রের সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এনসিএলটি।

যদিও এলআইসি হাউসিং ছাড়াও ঋণদাতাদের মধ্যে ছিল এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস, কানাড়া ব্যাঙ্ক প্রভৃতি সংস্থা। যারা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। যদিও তাদের বিরোধিতা খারিজ করে এনসিএলটি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। অন্যান্য ঋণদাতারা এই প্রস্তাব মেনে নেয়। সুভাষ চন্দ্রের কাছ থেকে যে টাকা পাওয়া যাবে তার মধ্যে ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাক্কসসমস্ত ঋণদাতাদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেওয়া হবে। বাকি ২৫ লক্ষ টাকা পুরো প্রক্রিয়ার জন্য খরচ করা হবে।

এনসিএলটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যে সব ঋণদাতা সহমত নন, তারা অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে আলাদাভাবে মূল ঋণ আদায়ের জন্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না। কারণ সেক্ষেত্রে এই বিধিবদ্ধ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে। কোম্পানি আইন, ২০১৩-র ধারা ৪১৯(৫) অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত অনুসারে আনুষ্ঠানিক আদেশের জন্য বিষয়টি মূল বিভাগীয় বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হবে।

২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ড. সুভাষ চন্দ্রের আত্মজীবনী ‘দ্য জেড ফ্যাক্টর: মাই জার্নি অ্যাজ দ্য রং ম্যান অ্যাট দ্য রাইট টাইম’ (The Z Factor: My Journey as the Wrong Man at the Right Time) প্রকাশ করেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে হরিয়ানা থেকে বিজেপির সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন সুভাষ চন্দ্র।

জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র
ফের রাজ্যসভার প্রার্থী মিডিয়া ব্যারন সুভাষ চন্দ্র, নাটকীয় মোড় রাজস্থানে
জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র
Bank of Baroda: ৫ বছরে ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় রাইট অফ ৩৫,৭১৫ কোটি টাকা, ঋণখেলাপী কারা? জানালো না ব্যাঙ্ক
জি টিভির প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র
RS Election: সুভাষ চন্দ্রের পরাজয়ে ক্ষুব্ধ BJP, রাজস্থানে নেতৃত্ব বদলের সম্ভাবনা প্রবল

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in