Bank of Baroda: ৫ বছরে ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় রাইট অফ ৩৫,৭১৫ কোটি টাকা, ঋণখেলাপী কারা? জানালো না ব্যাঙ্ক

People's Reporter: জানা গেছে ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ১০০ কোটি বা তার বেশি টাকা ঋণ নেওয়া ঋণ খেলাপীদের ৩৫,৭১৫ কোটি টাকা রাইট অফ করেছে। বা বলা যেতে পারে ঋণ মকুব করেছে।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকীছবি সংগৃহীত
Published on

২০২৬-এর ২১শে জুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফ বরোদা সম্পর্কে এক আরটিআই দাখিল করেছিলেন পুণের সমাজকর্মী বিবেক ভেলানকর। যে আরটিআই-এর আংশিক জবাব পাওয়া গেছে ৩০ জুলাই ২০২৬। সমাজকর্মী বিবেক ওই আরটিআই-তে যে যে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন তার কিছুটা জানালেও একটা বড়ো প্রশ্নের উত্তরই এড়িয়ে গেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যদিও এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া ঠিক কাদের বাঁচাতে তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ব্যাঙ্কের দেওয়া উত্তরে নেই।

কী কী জানা গেছে বিবেক ভেলানকর-এর করা আরটিআই-এর উত্তরে? এটা সত্যি যে, যতটুকু জানা গেছে সেই তথ্য অবশ্যই বেশ উদ্বেগের। চাঞ্চল্যকর, ভয়ংকর – যে কোনোটাই বলা যায়। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা থেকে জানা গেছে ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ১০০ কোটি বা তার বেশি টাকা ঋণ নেওয়া ঋণ খেলাপীদের ৩৫,৭১৫ কোটি টাকা রাইট অফ করেছে। বা বলা যেতে পারে ঋণ মকুব করেছে।

যদিও শব্দের মারপ্যাঁচে ব্যাঙ্ক বলে থাকে রাইট অফ করার অর্থ ঋণ মকুব করে দেওয়া হয়। ব্যাঙ্কের খাতা থেকে ওই হিসেব সরিয়ে দেওয়া হলেও সেই টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলে। যদি এই প্রক্রিয়াকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে রাইট অফ করার পরে এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯,৯৪৬ কোটি টাকা বা রাইট অফের ২৮ শতাংশ টাকা। অর্থাৎ গোদা বাংলায় উদ্ধার করা যায়নি ২৫,৭৬৯ কোটি টাকা বা ৭২ শতাংশ টাকা।

এর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক তথ্য জানার অধিকার আইনের অধীনে থাকা ছাড়ের কথা উল্লেখ করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা বড়ো ঋণগ্রহীতাদের নাম প্রকাশ করবে না। যাঁদের ঋণের টাকা সমঝোতার মাধ্যমে নামমাত্র অঙ্কে মিটিয়ে দিয়ে খাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই ঋণখেলাপী কারা? যারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে বড়ো অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন, ঋণখেলাপী হয়েছেন এবং নামমাত্র অঙ্কে ‘হেয়ারকাট’-এর পর যাঁদের ঋণ মকুব করে খাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে?

বিবেক ভেলানকরের প্রশ্নের উত্তরে ব্যাঙ্ক কোন বছরে কত টাকা রাইট অফ করা হয়েছে তার একটা হিসেব দিয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে ২০২০-২১ এ এই অঙ্ক ১১,৯১৬ কোটি টাকা, ২০২১-২২-এ ১১,২৬১ কোটি টাকা, ২০২২-২৩-এ ৮,৭৩৩ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪-এ ২,০৫৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫-এ ১,৭৫০ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক তাদের উত্তরে পুরো বিষয়টিকেই টেকনিকাল রাইট অফ বলে জানিয়েছে।

এর পাশাপাশি ১০০ কোটি বা তার বেশি অঙ্কের ঋণ খেলাপীদের কাছ থেকে রাইট অফের পর কত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০২০-২১-এ উদ্ধার হয়েছে ১,৮৯২ কোটি টাকা, ২০২১-২২-এ ১,৫৯৭ কোটি, ২০২২-২৩-এ ১,৯৯৩ কোটি, ২০২৩-২৪-এ ১,৭০৮ কোটি, ২০২৪-২৫-এ ১,৩৯২ কোটি এবং ২০২৫-২৬-এ ১,৩৬৪ কোটি টাকা।

ঋণখেলাপীদের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে ‘হেয়ার কাট’-এর অঙ্ক হিসেবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা জানিয়েছে, ২০২০-২১-এ এই টাকার পরিমাণ ২,৩৩১ কোটি টাকা, ২০২১-২২-এ ৩,১৩২ কোটি, ২০২২-২৩-এ ১,৮৩১ কোটি, ২০২৩-২৪-এ ১৫৫ কোটি, ২০২৪-২৫-এ ৩৬৮ কোটি, অর্থাৎ মোট ৭,৮১৭ কোটি টাকা। আরটিআই-কারী ভেলানকারের বক্তব্য অনুসারে, এই তথ্যই প্রমাণ করে যে বড়ো অঙ্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা হাজার হাজার কোটি টাকা হাতছাড়া করেছে। বিবেক ভেলানকার জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপীদের কারণে ব্যাঙ্কের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হলেও সেই ঋণখেলাপীদের পরিচয় গোপন করছে ব্যাঙ্ক।

ব্যাংক অফ বরোদা ঋণখেলাপীদের নাম প্রকাশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এই তথ্য ব্যক্তিগত প্রকৃতির এবং এর সাথে তৃতীয় পক্ষের তথ্য জড়িত; তাই এই তথ্য প্রকাশিত হলে গোপনীয়তার অন্যায্য লঙ্ঘন ঘটবে। ব্যাংক এক্ষেত্রে আরটিআই (RTI) আইন, ২০০৫-এর ধারা ৮(১)(জে)-এর উল্লেখ করেছে।

যেসব ঋণগ্রহীতার ঋণ এনসিএলটি (NCLT) বা অনুরূপ ফোরামে 'হেয়ারকাট' (ঋণের আংশিক মওকুফ বা ছাড়) গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তথ্যের অনুরোধটিও ব্যাংক প্রত্যাখ্যান করে। এক্ষেত্রে ব্যাংক আরটিআই আইনের ধারা ৮(১)(ডি), ৮(১)(ই) এবং ৮(১)(জে)-এর অধীনে প্রাপ্ত ছাড়ের (exemption) বিষয়টি উল্লেখ করে ঋণগ্রহীতা-ভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে এই আরটিআই আরও আগের থেকে তথ্য চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। তথ্য দেওয়া হয়েছে ২০২০-২১ আর্থিক বছর থেকে।    

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এক আরটিআই-এর উত্তরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছিল শেষ দশ বছরে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলোর হিসেবের খাতা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে ১৬ লক্ষ ৬১ হাজার ৩১০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণের হিসাব। যাকে পোশাকি ভাষায় বলা হয় ‘রাইট অফ’। এক আরটিআই-এর উত্তরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানায়, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট সাড়ে ১৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অনাদায়ী ঋণের হিসেব দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কের খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এই আরটিআই-এর উত্তর দেখিয়ে দিয়েছিল যে, আদপে ব্যাঙ্কের স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে বলে সরকারের তরফে দাবি করা হলেও তা আদৌ কতটা সত্যি তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ছবি প্রতীকী
Write Off: 'জাতীয় কোষাগার লুঠ!', উদ্বেগ জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে ব্যাঙ্ক বাঁচাও মঞ্চের চিঠি
ছবি প্রতীকী
Loan Write Off: শেষ ১০ বছরে কর্পোরেটদের পাহাড়প্রমাণ অনাদায়ী ঋণ মকুব কেন্দ্রের! তীব্র কটাক্ষ ইয়েচুরির

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in