

এসআইআর (Special Intensive Revision - SIR) নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে বড়োসড়ো ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India - ECI)। সোমবার কমিশনের একাধিক নির্দেশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সেই তালিকায় যেমন আছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (Logical Discrepancy) কথা তেমনই বলা আছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের (Admit Card) কথাও। ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর শুনানিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে ভোটারদের ডেকে পাঠানোর ঘটনায় ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে। এদিনের নির্দেশে কিছুটা হলেও ক্ষোভ কমবে বলেই মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল।
এসআইআর-এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। দাবি জানানো হয়েছিল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ্যে আনার। এদিন শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ তাদের নির্দেশে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে। রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির পূর্ণ তালিকা টাঙিয়ে দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
এই নির্দেশের পাশাপাশি এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, শুনানির সময় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে বুথ স্তরের এজেন্টদের থাকতে দিতে হবে এবং শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে নথি জমা দিচ্ছেন লিখিতভাবে তার প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে কমিশনকে। এতদিন পর্যন্ত নথি জমা দিলেও তার কোনও প্রাপ্তি স্বীকার করা হচ্ছিল না।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন অনুসারে, সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে নথি হিসেবে মান্যতা দেওয়া যাবে। উল্লেখ্য, অ্যাডমিট কার্ডকে নথি হিসেবে মান্যতা দেবার দাবি আগে খারিজ করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই প্রসঙ্গে বলেন, "বোর্ড কর্তৃক জারি করা অ্যাডমিট কার্ডের একটি অনুমানযোগ্য বৈধতা আছে, যদি এটি দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণ করতেই হবে।"
দেশের সর্বোচ্চ আদালত আরও জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী দিতে হবে। যারা বিভিন্ন ব্লক অফিস অথবা পঞ্চায়েত অফিসে বসবেন এবং ভোটারদের কথা শুনবেন। এছাড়াও প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে। যেখানে সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে এবং তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি জানাতে পারবেন।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, শুনানিতে যাদের ডাকা হচ্ছে তাদের সঙ্গে একজন ব্যক্তি যেতে পারবেন। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের বিএলএ-ও হতে পারেন। কোনও শুনানি কেন্দ্রে যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয় তাই রাজ্যকে প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হবে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বিএলও-দের বিভিন্ন নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপ-এর মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে এই অভিযোগের উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সব নির্দেশ দেবার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।”
এদিন আদালতে তৃণমূলের কয়েকজন সদস্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বাল। আদালতে সিব্বাল জানান, বাংলায় দত্ত, গাঙ্গুলী প্রভৃতি পদবী আলাদা আলাদা ভাবে উচ্চারিত এবং লেখা হয়ে থাকে। বানানগত সেইসব কারণেও শুনানির নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর হলে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সওয়াল করতে উঠে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, বানান বিভ্রাটের জন্য কাউকে যেন নোটিশ না পাঠানো হয় সেই বিষয়ে অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যদিও তিনি বলেন, বিএলএ-রা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। শুনানির কাজে তাঁরা জড়িত থাকতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ওপর আইনজীবী দামা শেষাদ্রী নাইডু অভিযোগ করেন যে রাজ্যে নির্বাচন আধিকারিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাঁরা হুমকির মুখে পড়ছেন।
মা ও সন্তানের বয়সে ১৫ বছরের ফারাক সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, এটা কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হতে পারে? এমন তো নয় যে আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে গেছে!
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন