

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী। চিঠিতে বেবী জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যত মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চিঠিতে এই প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক।
চিঠিতে একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এম এ বেবী। তিনি জানতে চেয়েছেন, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এত বড় মাপের সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করা কি যুক্তিসঙ্গত? তাঁর বক্তব্য অনুসারে, বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে যে এই প্রক্রিয়ার চাপে একাধিক ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বহু সাধারণ ভোটারও চরম মানসিক যন্ত্রণায় এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন—যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সমান অংশীদার। অথচ এই বিশাল কর্মসূচি শুরুর আগে তাদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা করা হয়নি। এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে একটি পরীক্ষাহীন ও অস্বচ্ছ সফটওয়্যার ব্যবহার করে তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপুল সংখ্যক নোটিশ জারি করা হয়েছে। যা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া আশ্বাসের পরিপন্থী। প্রায় দেড় কোটি ভোটারের বিষয়ে অসম্ভব সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন আধিকারিকদের বাধ্য করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত কাঠামোর বাইরে ‘মাইক্রো-অবজারভার’ নিয়োগ করে সমান্তরাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক জানান, পশ্চিমবঙ্গে SIR এক গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু ভোটার চাপে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন—যা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য গভীর লজ্জার বিষয়।
ওই চিঠিতেই নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে এনে তিনি জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব ভোটার তালিকাভুক্তির পূর্বশর্ত হলেও নাগরিকত্ব নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। অথচ SIR-এর আড়ালে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ধারণা স্পষ্ট হচ্ছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক মন্তব্য সেই আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এবং ভোটার নিবন্ধন বিধি, ১৯৬০ অনুসারে নিবিড় সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমবার তালিকা প্রস্তুতের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। কিন্তু বর্তমান SIR সেই পদ্ধতি অনুসরণ করছে না। বরং এক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার দিকেই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে—যাতে আইনের উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দিচ্ছে।
এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে পুনঃবিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ভোটাধিকার আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি। এই অধিকারকে সার্বজনীন ও সমানভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তা গভীরভাবে পর্যালোচনা জরুরি। আমরা আবারও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে পুনর্বিবেচনা করা হোক। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষার বদলে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এক অযৌক্তিক অভিযানে পরিণত হয়েছে।গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে ভোটারের প্রতি আস্থা রাখতে হবে—ভোটারকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন