সিকিমে টানেলে আটকা পড়ে মৃত্যু হল কমপক্ষে ৭ জন শ্রমিকের। আশঙ্কা করা হচ্ছে সেখানে এখনও বেশ কিছু শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। গতকাল সিকিমের নামচিতে এনএইচপিসি তিস্তা স্টেজ-সিক্স হাইড্রোলিক প্রোজেক্টে কাজ চলাকালীন সোমবার বিকেলে এক বিস্ফোরণে আচমকাই সামারদুং টানেলে ধস নামে। যে ধসে প্রায় ২৭ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা। উদ্ধারকারী দল টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছবার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নামচি ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্ট-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে গতকালের ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে এই দুর্ঘটনার কারণ জানা সম্ভব হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে টানেলের ভেতর কাজ চলাকালীন আচমকাই সেখানে কোনও কারণে মিথেন গ্যাস বেরোতে শুরু করে এবং তারপর বিস্ফোরণ হয়। উদ্ধারকারী দল বাইরে এলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে নামচির জেলা কালেক্টর অনুপা তামলিঙ জানিয়েছেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে ২৭ জন শ্রমিক টানেলের ভেতর আটকা পড়েছেন। যদিও কত শ্রমিক টানেলের ভেতর কাজ করছিল তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তাই ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে আছেন তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংখ্যা বাড়তে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, গতকাল বিকেল ৩টে ৪০ নাগাদ তাদের কাছে দুর্ঘটনার খবর আসে। যদিও টানেলের ভেতর মিথেন গ্যাস থাকার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে বিস্ফোরণের ফলে পাহাড়ের মধ্যে থাকা মিথেন গ্যাস বেরোতে শুরু করেছে।
অনুমান করা হচ্ছে প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ২১ জন কর্মী এবং এনএইচপিসি-র ৬ কর্মী দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভেতর কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার খবর আসার পরেই উদ্ধারকাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), জেলা পুলিশ এবং দমকল বিভাগ। উদ্ধারকাজে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও এক বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। যদিও বিস্ফোরণস্থলে মিথেন গ্যাস বেরোনোর কারণে উদ্ধারকাজে প্রবল অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে। পুরো উদ্ধারকাজের তদারকি করছে সিকিম স্টেট ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (SSDMA)।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন