রাজ্যসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্র থেকে বিরোধী জোটের প্রার্থী হচ্ছেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা শরদ পাওয়ার। শরদ পাওয়ারের দল ন্যশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেস যৌথভাবে বুধবার রাতে একথা ঘোষণা করেছে। যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শরদ পাওয়ারের মেয়ে তথা এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এবং মহারাষ্ট্র কংগ্রেস প্রধান হর্ষবর্ধন সাপকাল।
সুপ্রিয়া সুলে বলেন, ‘’গতকাল জয়ন্ত পাতিল এবং আমি উদ্ধব ঠাকরের সাথে দেখা করেছি এবং এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। শরদ পাওয়ারকে সমর্থন করার জন্য কংগ্রেস এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমি।‘’
হর্ষবর্ধন সাপকাল বলেন, ‘’ আমরা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কংগ্রেস মহারাষ্ট্র থেকে রাজ্যসভার জন্য শরদ পাওয়ারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।‘’
আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচন। দেশের ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের সাতটি আসনও রয়েছে। বিধায়কদের সংখ্যার নিরিখে একটি আসনে জয়ী হবে বিরোধীরা।
এই একটি আসনকে কেন্দ্র করেই বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদি প্রায় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। সূত্রের খবর, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বা উদ্ধব ঠাকরেকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল। এতে আপত্তি জানায় শরদ পাওয়ারের দল। এই নিয়ে উভয় দলের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।
শরদ পাওয়ার কয়েক মাস আগে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে এবার সরে দাঁড়াবেন। রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। কিন্তু গত মাসে তাঁর ভাইপো তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যুর পর নিজের এই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। দলের নেতারা ঘোষণা করেন, পাওয়ার রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। তবে জোট সঙ্গীদের কাছ থেকে কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর শরদ পাওয়ারকেই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন বিরোধীরা।
মহারাষ্ট্র বিধানসভায় মোট ২৮৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বিজেপির দখলে ১৩১টি আসন রয়েছে। শিবসেনা শিন্ডের ৫৭ এবং এনসিপির (অজিত পাওয়ার)-এর ৪০জন বিধায়ক রয়েছে।
বিরোধী জোটের মধ্যে শিবসেনা উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর ২০ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন এবং এনসিপির ১০ জন বিধায়ক আছে।
রাজ্যসভায় জয়ের জন্য ৩৭টি ভোটের প্রয়োজন।
বুধবার বিজেপি-ও তাদের চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রামদাস আঠাওয়ালে, বিনোদ তাওড়ে, মায়া চিন্তামন এবং রামরাও ওয়াদকুতেকে প্রার্থী করছে পদ্ম শিবির।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন