

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের আবহে সরাসরি ধাক্কা লাগছে ভারতের শেয়ার বাজারেও। সোমবার সকালেই সেনসেক্স পড়েছে ২,৪০০ পয়েন্ট। নিফটি নেমেছে ২৩,৭৫০ পয়েন্টের নিচে। গত ১১ মাসের মধ্যে এদিনই শেয়ার বাজার সবথেকে নিচের স্তরে পৌঁছেছে।
মূলত যুদ্ধের আবহ এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যাওয়াতেই শেয়ার বাজারের এই পতন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ৭ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। যা অপ্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্য ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এসবিআই-এর শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ নেমে যাওয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা ৬২,৩৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ছিল ৭৮,৯১৮.৯০ পয়েন্টে। সোমবার সকালে বাজার খোলার সময় সেনসেক্স হয় ৭৭,০৫৬.৭৫ পয়েন্ট। এরপর আরও নেমে সেনসেক্স একসময় পৌঁছে যায় ৭৬,৪২৪.৫৫ পয়েন্টে। যা এখনও পর্যন্ত এদিনের ডে লো। আজ এখনও পর্যন্ত সেনসেক্সের ডে হাই ৭৭,৩৩৩.৮৫ পয়েন্ট। এই খবর লেখার সময় সেনসেক্স ১,৭৯২.৫৩ পয়েন্ট নেমে ৭৭,১২৬.৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে।
সেনসেক্সের মতই নিফটি ৫০-র ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় যা ছিল ২৪,৪৫০.৪৫ পয়েন্ট এদিন সকালে বাজার খোলার সময় তা হয় ২৩,৮৬৮.০৫ পয়েন্ট। এরপর আরও নেমে তা পৌঁছে যায় ২৩,৬৯৭.৮০ পয়েন্টে, যা এদিনের ডে লো। এদিনের ডে হাই এখনও পর্যন্ত ২৩,৯৫৯.৭০ পয়েন্ট। এই খবর লেখার সময় ৫৮১.৪৫ পয়েন্ট নেমে নিফটি-৫০ দাঁড়িয়ে আছে ২৩,৮৬৯.৮৫ পয়েন্টে।
শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাজার জুড়ে বিক্রি চলায় শেয়ার বাজারে এত দ্রুত পতন হচ্ছে। এদিন সবথেকে খারাপ অবস্থা হয়েছে পিএসইউ ব্যাঙ্ক ইন্ডেক্সের। যার পতন হয়েছে ৫.৬ শতাংশ। নিফটি ব্যাঙ্ক ইন্ডেক্স নেমেছে ৪ শতাংশ। নিফটি অটো ইন্ডেক্স নেমেছে ৪.৩ শতাংশ। নিফটি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ইন্ডেক্স নেমেছে ২.৯ শতাংশ। এছাড়াও নিফটি মিডক্যাপ, নিফটি রিয়েলিটি, নিফটি মেটাল ইন্ডেক্সেও ভারী পতন ঘটেছে।
সোমবার এখনও পর্যন্ত ২,৬০৩টি শেয়ারের দাম পড়েছে, ৫৩৭টির দাম বেড়েছে এবং ১৮০টি শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত আছে।
দ্য মানি কন্ট্রোল জানাচ্ছে, শুক্রবার ফরেন ইন্সটিটিউশনাল ইনভেস্টররা (FII) ৬,০৩০.৩৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। মার্চ মাসের প্রথম চার দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১,৮২৯ কোটি টাকা।
যুদ্ধের আবহে ভারতীয় টাকার দাম আরও নেমেছে। সোমবার সকালে ১ মার্কিন ডলারের অনুপাতে ভারতীয় টাকার দাম দাঁড়িয়েছে ৯২.২৩ পয়সায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন