পারিবারিক ঝড় ঝাপটা উপেক্ষা করে তেজস্বী যাদবের হাতেই রাজপাট তুলে দিলেন আর জে ডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব। এতদিন খাতায় কলমে তিনিই দায়িত্ব সামলালেও দলের আসল রাশ ছিল তেজস্বীর হাতেই। রবিবার পাটনায় দলীয় বৈঠকে পাকাপাকিভাবেই তেজস্বী যাদবকে আরজেডি-র জাতীয় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। এদিনের বৈঠকে লালুপ্রসাদ যাদব, রাবড়ী দেবী, মিসা ভারতী ছাড়াও আরজেডি অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
কিছুদিন আগেই বিহার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে নির্বাচনে আসন প্রাপ্তির নিরিখে কার্যত শক্তিক্ষয় হয়েছে আরজেডি-র। যা নিয়ে পারিবারিক বিবাদও শুরু হয়। এর আগে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও তেজস্বীর নেতৃত্বে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি আরজেডি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তেজস্বীর সঙ্গে বিবাদের জেরেই ঘর ছেড়েছেন লালুপ্রসাদের বড়ো ছেলে তেজপ্রতাপ। বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিবারের প্রতি এবং তেজস্বীর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনীতি এবং পরিবার ছেড়েছেন লালুপ্রসাদের মেয়ে রোহিনী আচার্য। ওই সময় রোহিনী জানিয়েছিলেন, তাঁকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। এই রোহিনীই বাবা লালুপ্রসাদকে নিজের কিডনি দান করেছিলেন। যদিও এসব বিতর্ক গায়ে না মেখে তেজস্বীতেই আস্থা রাখলেন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ লালুপ্রসাদ যাদব।
এদিন তেজস্বী যাদবকে দলের কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করার পর আরজেডি-র এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) লেখা হয়, নতুন এক যুগের শুভারম্ভ হল। তেজস্বী যাদবকে আরজেডি-র জাতীয় কার্যকরী সভাপতি করা হল।
এদিন তেজস্বীর যাদবের পদোন্নতিতে তাঁর দাদা তেজপ্রতাপ এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য না করলেও মন্তব্য করেছেন রোহিনী আচার্য। এক এক্স বার্তায় রোহিনী আচার্য দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে দল ফ্যাসিবাদী বিরোধীদের পাঠানো অনুপ্রবেশকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যাঁদের লালুবাদকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যে কেউ সত্যিকারের লালুবাদী সে লালু প্রসাদ যাদবের প্রতিষ্ঠিত দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হবে।
নিজের পোষ্টে তিনি আরও লেখেন, “এই ধরণের ব্যক্তি নিঃসন্দেহে দলের বর্তমান দুঃখজনক অবস্থার জন্য দায়ীদের প্রশ্ন করবেন এবং পরিণতির পরোয়া না করেই এই ধরণের ব্যক্তিদের সন্দেহজনক ও সন্দেহজনক ভূমিকার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন