

কর্নেল সোফিয়া কুরেশির (Colonel Sofiya Qureshi) বিরুদ্ধে করা আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে এবার বিপাকে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কাওয়াঁর বিজয় শাহ (Kunwar Vijay Shah)। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত মামলায় মধ্যপ্রদেশ সরকারকে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের অনুমোদন দেবার জন্য দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবার নির্দেশ দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার শীর্ষ পদাধিকারীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আছে।
সোমবার শীর্ষ আদালতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, আদালত কর্তৃক গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল তাদের তদন্ত শেষ করেছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে। এই রিপোর্ট এখন মধ্যপ্রদেশ সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৯৬ (সাম্প্রদায়িক ঘৃণা এবং বিদ্বেষ প্রচার)-এর অধীনে এই অপরাধের বিচারের জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।
গত বছর পহেলগাঁও হামলার সময় ভারতীয় সেনার সাংবাদিক সম্মেলনে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এক উল্লেখ্যযোগ্য মুখ ছিলেন। ওই সময়েই এক জনসভায় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কাওয়াঁর শাহ বলেছিলেন, “পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদীদের ধ্বংস করার জন্য তাদের বোনকে পাঠিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে।” মন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় এবং মন্ত্রী বিজয় শাহ সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষমা প্রার্থনা করে বিবৃতি দেন।
যদিও মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কর্নেল কুরেশির বিরুদ্ধে মন্ত্রী বিজয় শাহের এই ‘অপভাষা প্রয়োগ’ ও ‘অশ্লীল’ মন্তব্যের ঘটনায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। ২০২৫ সালের ১৪ মে হাইকোর্টের দেওয়া এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মন্ত্রী বিজয় শাহ। আদালতে মন্ত্রী বিজয় শাহের পক্ষের আইনজীবী জানান, মন্ত্রী এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা প্রকাশিত হয়েছে। আদালত ‘অনলাইন ক্ষমা চাওয়ার’ বিষয়টিতে তীব্র আপত্তি জানায়।
২০২৫ সালের ১৯ মে শীর্ষ আদালতে তীব্র ভর্ৎসিত হন মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী শাহ। পরে সুপ্রিম কোর্টেও ক্ষমা চান তিনি। কিন্তু তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানায়, আইনি প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে মানুষ প্রায়শই 'কুমিরের কান্না' কাঁদে। বিচারপতি সূর্য কান্তের জানিয়েছিলেন, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাননি বিজয় শাহ। ওইদিনই শাহের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ দল (এসআইটি) গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত এবং ওই বছরের ২৮ মে -এর মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিটিকে।
গত বছরের ১২ মে ইন্দোরের কাছে মোহাউতে তহসিলের মানপুরে এক সরকারি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিজয় শাহ বলেছিলেন, “ওরা আমাদের হিন্দু ভাইদের পোশাক খুলে ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিজি ওদের (জঙ্গিদের) বোনকেই পাঠিয়েছেন ওদের বাড়িতে হামলার জন্য। ওরা (জঙ্গিরা) আমাদের বোনকে বিধবা করেছে, তাই মোদিজি ওদের সম্প্রদায়ের বোনকেই ওদের পোশাক খুলে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন”।
এরপর প্রবল বিতর্কের জেরে, ১৪ মে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষমা চান মন্ত্রী বিজয় শাহ। তিনি লেখেন, “আমি বিজয় শাহ, আমার সাম্প্রতিক বক্তব্য, যা প্রতিটি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তার জন্য কেবল লজ্জিত এবং দুঃখিতই নই, বরং আমি আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ক্ষমাও চাইছি। আমাদের দেশের বোন সোফিয়া কুরেশিজী জাতি ও সমাজের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর জাতীয় কর্তব্য পালন করেছেন।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন