

ফের বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন। তিনি দাবি করেছেন, যে সমস্ত ব্যক্তি আধ্যাত্মিক গুরুদের ঈশ্বরের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করেন না, তাঁরা ‘’রাস্কেল, বোকা এবং বর্বর’’।
সোমবার তামিলনাড়ুতে একটি আধ্যাত্মিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন বলেন, ‘’তামিলনাড়ুতে কিছু লোক আছে যাঁরা নিজেদের "যুক্তিবাদী" বলে দাবি করেন। তাঁরা আমাদের রাস্কেল, বোকা এবং বর্বর বলে ডাকে কারণ আমরা আধ্যাত্মিক গুরুকে ঈশ্বরের এক রূপ হিসেবে দেখি। আমি বলি যে তাঁরা নিজেরাই আসলে এই তকমা পাওয়ার যোগ্য।‘’
তামিলনাড়ুর হোসুরের একটি বেসরকারি স্কুলে হোসুর সৎসঙ্ঘ কর্তৃক আয়োজিত গুরু বন্দনা উৎসবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি। তিনি গুরুর আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ঈশ্বর হলেন একটি বিমূর্ত ধারণা যাকে আমরা দেখতে পাইনা, কিন্তু গুরু হলেন ঈশ্বরের জীবন্ত উপস্থিতি... ঈশ্বরের পা ধরে রাখা কঠিন, কিন্তু গুরুনাথের পা ধরে রাখা খুব সহজ।”
কঠিন সময়ে আধ্যাত্মিক নির্দেশনার ভূমিকা সম্পর্কেও কথা বলেছেন বিচারপতি স্বামীনাথন। এই প্রসঙ্গে এক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। গভীর রাতে গাড়ি করে চণ্ডীগড় থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা পাঁচ ফুটে নেমে এসেছিল। রাত ১:০০ টা নাগাদ ব্যস্ত হাইওয়েতে গাড়ির পিছনের ডান দিকের চাকা পাংচার হয়ে যায়। সেইসময় তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন এবং অসহায় বোধ করেছিলেন।
তিনি জানান, ঘন কুয়াশার মধ্যে আমার স্ত্রী এবং চালক যখন টায়ার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছিলেন, তখন ৩০ মিনিট ধরে আমার মুখ থেকে কেবল একটি শব্দই বেরিয়েছিল ‘গুরুনাথ, গুরুনাথ, গুরুনাথ’। এই ঘটনাটি আমার জীবন বদলে দিয়েছে। যখন আমরা অসহায় বোধ করি, তখন গুরুনাথের করুণাই আমাদের শক্তি এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে।‘’
তিনি আরও বলেন, ‘’আমরা কেবল ভৌত দেহ দেখতে পাই, কিন্তু আমাদের চারপাশে সর্বদা একটি আভা থাকে। গুরু মহারাজদের এই আভা খুবই শক্তিশালী। যখন আমরা তাঁদের কাছে থাকি, তখন তাঁদের আভা আমাদের আলিঙ্গন করে এবং আমাদের দুর্বলতাগুলিকে ধুয়ে দেয়।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিচারপতি স্বামীনাথনের বিরুদ্ধে 'ইমপিচমেন্ট' প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত রায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তিরুপারঙ্কুন্ড্রমে একটি ঐতিহাসিক দরগার কাছে অবস্থিত দীপাথুনে (একটি পাথরের স্তম্ভ) প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাজ্য বিচারপতির এই নির্দেশে আপত্তি জানায়। এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল।
এর আগে জাতীয় বৈদিক প্রতিভা সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে স্বামীনাথন বলেছিলেন, ‘আমরা বেদকে রক্ষা করলে, বেদ আমাদের রক্ষা করবে’।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন