রাম মন্দিরে অনুদান এবং সোনা চুরির তদন্তে নেমে আরও তথ্য পেল সিট। মন্দির ট্রাষ্টের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৈরি করে দেওয়া স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম জানতে পেরেছে শুধু অনুদান বা সোনা নয়, খোঁজ নেই বেশ কিছু রূপোর গয়নারও। যা আনুমানিক প্রায় ৬০ কেজি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বেশ কিছুকে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিট (SIT) বলে জানিয়েছে ভাস্কর ইংরেজির এক প্রতিবেদন।
রাম মন্দির অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, "...এটি এক বিশাল চুরির ঘটনা। কোটি কোটি টাকার অনুদান চুরি হয়েছে—তা-ও আবার স্বয়ং রামচন্দ্রের মন্দির থেকে। সত্যকে চাপা দেওয়া যাবে না। রামচন্দ্রের রোষানলে যোগী সরকার ভেসে যাবে..."
জানা যাচ্ছে, গত ১৮ জুন এই তদন্তে মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটের তদন্তকারী দল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার রাম মন্দিরে ৩ কেজি রূপোর এক মালা এবং ১ কেজি রূপোর এক চরণ পাদুকা দান করেছিলেন। যদিও এই দানের জন্য কখনই তাঁদের কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলারস অ্যাসোসিয়েশনের উত্তর ভারতের প্রধান অনুরাগ রাস্তোগী দাবি করেছেন, ব্যবসায়ীরা অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে রাম মন্দিরে যে ৬০ কেজি রূপো দান করেছিল তার কোনও খোঁজ নেই। সারা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পরিমাণ রূপো দান করেছিলেন। সেই সমস্ত রূপো একজায়গায় করে রূপোর ইট তৈরি করা হয়। যার প্রতিটির ওজন ছিল ১ থেকে ১.২৫ কেজি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ২০ জুলাই চম্পৎ রাইয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সমস্ত রূপোর ইট অযোধ্যায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ইট দানের সমস্ত রশিদ তাঁর কাছে আছে। রাস্তোগী জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুটি ১ কেজির রূপোর প্রদীপ, দুটি রূপোর বাটি, একটি ২০০ গ্রামের পঞ্চধাতুর মুষল এবং একজোড়া নাগ নাগিনী মূর্তি দান করেছেন। যদিও পরে এই জিনিসগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকে অনুসন্ধানকারী দল সবকিছু খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী দলের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন মন্দির কমিটির সঙ্গে যুক্ত টিন্নু যাদব, কৃষ্ণদেব তিওয়ারী। এছাড়াও মন্দিরের চার পুরোহিতকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সূত্র অনুসারে, রাম মন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির তদন্তের ঘটনায় চম্পত রাইয়ের সহযোগী টিন্নু যাদবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এসআইটি (SIT)।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন