অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান এবং গহনা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে ওঠা চরম বিতর্কের মধ্যেই রাম মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেবার দাবি জানালেন রাম জন্মভূমি নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানিয়েছেন। যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাক্তন মুখ্য সচিব।
ওই সাক্ষাৎকারে নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, এই কথিত অনিয়মের কারণে শুধু ভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত লেগেছে তাই নয়, বরং মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও প্রস্তাব দেননি। কিন্তু তাঁর অভিমত, পুরো ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করে অভিজ্ঞ পেশাদারদের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
ওই সাক্ষাৎকারে শ্রী নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, মন্দিরের কাজকর্মের বেশিরভাগই কোনও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বদলে এক স্বেচ্ছাসেবী চালিত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। সেখানে অধিকাংশ মানুষই স্বেচ্ছাসেবক। তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনও দায়িত্ব বা কাজের বন্টন নেই। অথচ মন্দিরের ভেতর বিভিন্ন কাজের জন্য প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়োজিত থাকেন। মন্দিরের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এদের জন্য নির্দিষ্টভাবে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, তিনি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জারি করা নির্দেশ সহ কিছু নথি খতিয়ে দেখেছেন। সেখানে বিস্তারিতভাবে কর্মপদ্ধতি বলা ছিল। যদি তা অনুসরণ করে কাজ করা হত তাহলে আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হত না।
এক নজরে রাম মন্দিরের ঘটনা
অযোধ্যার প্রাক্তন বিধায়ক এই দুর্নীতির বিষয়ে প্রথম অভিযোগ করেন। এরপর গত ৭ জুন রামমন্দির ট্রাষ্টের অনুদানের বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ ছিল রাম মন্দিরে অনুদান বাবদ প্রাপ্ত বহু টাকার কোনও হিসেব নেই এবং এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়ে সরকারের নীরবতা সন্দেহজনক।” অখিলেশ যাদবের পর একাধিক বিরোধী নেতাও এই বিষয়ে অভিযোগ তোলেন। যদিও প্রাথমিকভাবে ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই, উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ প্যাটেল এবং উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরে ট্রাষ্টের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং ট্রাষ্টের একাধিক কর্মীর বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধার হয়। সামনে আসে বেশ কিছু আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদের কথাও। যদিও ঠিক কতজন কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কত টাকা বা কত গহনা ঘুরপথে মন্দির থেকে সরানো হয়েছে এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এই বিষয়ে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পুরো বিষয়টিই জানেন কিন্তু বর্তমানে তিনি বিস্তারিতভাবে কিছু বলার অবস্থায় নেই। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে তিনি জানিয়েছেন, “সত্যি কথা বললে আমি বিপদে পড়ে যাব, কারণ তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই মুহূর্তে সত্যি কথা বলার মতো সাহস আমার নেই। উপযুক্ত সময় এলে আমি অবশ্যই কথা বলব।” এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতা ডঃ রজনীশ সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এক চিঠি লিখে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানান।
চাপের মুখে পড়ে ট্রাষ্টের অনুরোধে গত ১৩ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তে এক সিট গঠন করা হয়। সিট-কে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। বিশেষ এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লখনৌ ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ এবং তাঁকে সহায়তা করছেন আই জি কিরণ এস এবং অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীলরতন কুমার।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন