

পুণে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার স্বঘোষিত এক বাবা (Self Styled Godman)। নিজেকে ভগবানের অবতার দাবি করা ওই ‘বাবা’র বিরুদ্ধে ২৬ বছর বয়সী এক মহিলাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন শোষণ, হয়রানি, অত্যাচার সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় স্বঘোষিত বাবা ওরফে রাধামোহন মিশ্র সহ আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনুমান করা হচ্ছে পুনে ছাড়াও এই র্যাকেট হরিয়ানা সহ আরও অন্যান্য জায়গায় সক্রিয় ছিল।
পুনে পুলিশ সূত্র অনুসারে, ধৃত ভন্ড বাবার বয়স ৫৯ বছর। তিনি নিজেকে ঈশ্বরের অবতার বলে দাবি করেন। ধর্ম ব্যবসার আড়ালে পঞ্চকুলায় তাঁর গুরুদেব সাধনা ধাম ট্রাষ্ট আশ্রমে তিনি গত কয়েক বছর ধরে এক মহিলাকে যৌন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই মহিলাকে ধর্ষণ, শারীরিক অত্যাচার, আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে ‘বাবা’-র বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ‘বাবা’র ঘনিষ্ঠ সঙ্গী কানওয়াল নয়ন (৫৭) এবং ছয় মহিলা সহ মোট ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এরা সকলেই ওই অপরাধ চক্রের অংশ।
পুলিশি তদন্ত অনুসারে, ধর্ম বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে ওই স্বঘোষিত বাবা উক্ত মহিলাকে নিজের প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করতেন। মহিলাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া এবং মারধোর করা যত। ওই মহিলার সম্পত্তি দখলের জন্য তাঁকে স্বামী ও পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার জন্যেও চাপ দিতেন বাবা।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলার বাবা একজন চিকিৎসক এবং তাঁর সূত্রেই ওই বাবার সঙ্গে মহিলার আলাপ। রাধামোহন মিশ্র ওরফে স্বঘোষিত বাবা তাঁর ঐশ্বরিক প্রভাব আছে বলে দাবি করে এই পরিবারের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। এরপরেই শুরু হয় প্রতারণা। অভিযোগ, অন্ধ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ওই ‘বাবা’ মেয়েটির পরিবারে বিভেদ সৃষ্টি করেন এবং মেয়েটিকে যৌন শোষণ করতে শুরু করেন। এরপর সেই ঘটনা ভিডিও বন্দী করে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেল করা হত।
অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশ রাধামোহন মিশ্রের আশ্রমে তল্লাশি অভিযান চালায়। আশ্রম থেকে ৮টি ল্যাপটপ, ১১টি মোবাইল ফোন, ২৩টি পেন ড্রাইভ, ১৯টি হার্ড ডিস্ক, ২৯টি ক্যাসেট, ১০টি কার্তুজ এবং প্রচুর ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই মহিলা ছাড়াও ওই ‘বাবা’ আধুনিক গুরুকুল-এর আড়ালে বিভিন্ন পরিবারকে তাদের সন্তানকে আশ্রমে রাখার জন্য প্ররোচিত করত। বর্তমানে এই আশ্রমের অধিকাংশ জায়গা সিল করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, শুধু এই মহিলা নয়, হয়তো আরও অনেক মহিলা এই ‘বাবা’র লালসার শিকার হয়েছে। তাই সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আশ্রম থেকে উদ্ধার হওয়া সমস্ত ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট ফরেনসিক অডিটে পাঠানো হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন