

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং এসএফআই, আইসা সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের দেশজোড়া আন্দোলনের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে সরকার। ইস্তফা দিতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। যদিও এই আন্দোলনকে ঘিরে ওঠা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। বিশেষ করে গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানে ছাত্রদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন একাধিক বিরোধী নেতৃত্ব।
শনিবার এই প্রসঙ্গ উদ্ধৃত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এক চিঠি লিখেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, “আমি ২০ জুলাই, ২০২৬-এ দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এই চিঠি লিখছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে আন্দোলনকারীদের দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ছাত্রীদের গোপন অঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
রাহুল গান্ধী বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্রাণঘাতী প্যালেট বন্দুকের ব্যবহার। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে বহু মানুষ গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও আছেন। আমি ১৯-বছর বয়সী ছাত্র সাহিল লোচাবের সাথে দেখা করেছি, যিনি এখন তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন এবং যিনি পেলেট বন্দুকের গুলিতে আহত হওয়ায় সম্ভবত একটি চোখ হারাতে চলেছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লোকসভার বিরোধী দলনেতার এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, “দিল্লিতে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী শেষ পর্যন্ত আপনার অধীনস্থ, তাই আমি জানতে চাই:
১. গৃহমন্ত্রী হিসেবে আপনি কি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্যালেট বন্দুকসহ প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে কে দিয়েছে?
২. সাধারণ পোশাক পরিহিত যারা লাঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করতে দেখা গেছে, তারা কি পুলিশকর্মী নাকি স্বেচ্ছাসেবী? তাদের মোতায়েনের অনুমতি কে দিয়েছে?”
২০ জুলাইয়ের ঘটনার দায় কার প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী ওই চিঠিতে লিখেছেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ যে কোনও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবাদকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সংলাপের মাধ্যমে তাদের অভিযোগের সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। এমন নৃশংস সহিংসতা সব ধরনের বিধি-নিয়ম ধ্বংস করে, এবং দেশকে ক্ষুব্ধ করেছে। যুবক এবং ছাত্রছাত্রীরা, যারা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ, তারা জবাব এবং দায়বদ্ধতা দাবি করছে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন