

রাহুল গান্ধীর ‘সিজেপি’ (CJP) বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালো সিপিআইএম (CPIM) এবং সিপিআই (CPI)। সূত্র অনুসারে, ইন্ডিয়া মঞ্চের এক বৈঠকে রাহুল গান্ধীর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস এবং সিপিআই-এর সাংসদ পি সন্দোশকুমার। সম্প্রতি কেরালায় কংগ্রেসের এক সভায় বিজেপি এবং সিপিআইএম-কে আক্রমণ করতে রাহুল গান্ধী ‘সিজেপি’ মন্তব্য করেছিলেন।
সম্প্রতি কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেরালার তিরুবনন্তপুরমে দলীয় এক সভায় বলেন, সিপিআইএম (CPIM) এখন কমিউনিস্ট জনতা পার্টি - সিজেপি (CJP) হয়ে গেছে। কারণ তাদের সঙ্গে বিজেপির (BJP) গোপন বোঝাপড়া আছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়নকে একজন 'দুর্নীতিগ্রস্ত' বলে অভিহিত করে রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি এখনও জেলের বাইরে আছেন কারণ, সিপিআইএম ও বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাত আছে।
যদিও এবারই প্রথম নয়। এর আগেও কেরালায় গিয়ে ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্যতম শরিক সিপিআইএম-কে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী। একাধিকবার তাঁর নিশানায় এসেছেন পিনারাই বিজয়ন এবং সিপিআইএম। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে রাহুলের এহেন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কেরালার বাম নেতৃত্ব। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই রাহুল গান্ধী কেরালায় গিয়ে এই ধরণের মন্তব্য করেছেন। কারণ যেহেতু সামনেই কেরালার বিধানসভা নির্বাচন এবং সেখানে মূল দুই প্রতিপক্ষ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ, তাই এই ধরণের মন্তব্য করেছেন রাহুল গান্ধী।
ইন্ডিয়া মঞ্চের ওই বৈঠকে সিপিআইএম এবং সিপিআই-এর প্রতিবাদের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, এই মঞ্চ ওই বিষয়ে আলোচনার জন্য নয়। কারণ এই বৈঠক শুধুমাত্র সংসদের ইন্ডিয়া মঞ্চভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের কৌশল নির্ণয় সংক্রান্ত। তিনি আরও বলেন, এই বৈঠক শুধুমাত্র সংসদের দুই সদনের নীতি নির্ধারণের জন্য। অন্য বিষয় পরে আলাদা ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে।
খাড়গের মন্তব্যের পরেও সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস এবং সিপিআই সাংসদ সন্দোশকুমার বলেন, রাহুল গান্ধীর এই ধরণের মন্তব্যে কেরালায় বামেদের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের ইঙ্গিত করেছেন তা ইন্ডিয়া মঞ্চের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। বামেদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ইন্ডিয়া মঞ্চের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রথম থেকেই বাম দলগুলি যুক্ত। এই ধরণের মন্তব্য ইন্ডিয়া মঞ্চের সংহতিকে দুর্বল করতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন