

২০১৮ সালের এক মানহানির মামলায় উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের এক আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজের বয়ান রেকর্ড করালেন লোকসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। ওই সময় বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে করা এক মন্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের হয়। আগামী ৯ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
এদিন আদালত কংগ্রেস সাংসদকে তাঁর বয়ানের পক্ষে নথি জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির আগে তাঁকে এই তথ্যাদি জমা দিতে হবে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সুলতানপুর কোর্টে পৌঁছান কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বেলা সোয়া এগারোটা পর্যন্ত তিনি আদালতে ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই জানিয়েছেন, সুলতানপুর থেকে লখনৌ হয়ে রাহুল গান্ধী দিল্লি পৌঁছবেন।
সুলতানপুরের বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এই মানহানির মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালে কর্ণাটকের নির্বাচনের সময় বেঙ্গালুরুর এক প্রচারসভায় তৎকালীন বিজেপি সভাপতি এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। গত পাঁচ বছর ধরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এই মামলা চলছে।
অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুসারে, বেঙ্গালুরুর সভায় তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, বিজেপি স্বচ্ছ এবং সৎ রাজনীতির দাবি করে, কিন্তু তাদের “দলীয় সভাপতি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত”। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের সোহরাবউদ্দিন শেখ ফেক এনকাউন্টার মামলা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। যদিও ২০১৪ সালে মুম্বাইয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত এই অভিযোগ থেকে অমিত শাহকে মুক্তি দেয়। যে সময় গুজরাটে সোহরাবউদ্দিন শেখ হত্যাকান্ড ঘটে সেইসময় গুজরাটের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন অমিত শাহ।
এর আগে ২০২৩ সালে এই মামলায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং দুটি ২৫ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ২৬ তারিখ তিনি এই মামলায় হাজিরা দিয়ে প্রথমবার নিজের বয়ান রেকর্ড করান এবং জানান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি নির্দোষ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন