Rahul Gandhi: আপোষকামী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশ চালানো সম্ভব নয় - ফের রাহুল নিশানায় নরেন্দ্র মোদী

People's Reporter: ওই বিবৃতিতেই রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, “১২ বছরে তিনি দেশকে এমন এক অবস্থায় এনেছেন যে জনগণকে বলে দিতে হয় - কী কিনবেন, কী কিনবেন না, কোথায় যাবেন, কোথায় যাবেন না।
রাহুল গান্ধী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
রাহুল গান্ধী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীফইল ছবি সংগৃহীত
Published on

“একজন আপোষকামী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশ চালানো আর সম্ভব নয়।” মোদিজীর উপদেশ আসলে ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় একথা জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। গতকাল রবিবার হায়দারাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীদের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে কাজ করা, সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা, কম পেট্রোল ব্যবহার করা সহ একাধিক আহ্বান জানিয়েছিলেন। যার উত্তরে সোমবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উত্তরে সোমবার রাহুল গান্ধী জানান, “মোদীজি গতকাল জনগণের কাছে ত্যাগ স্বীকারের দাবি করেছেন - সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, কম পেট্রোল ব্যবহার করুন, সার ও রান্নার তেল কমান, মেট্রোতে যাতায়াত করুন, বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো কোনো উপদেশবাণী নয় - এগুলো ব্যর্থতার প্রমাণ।”

ওই বিবৃতিতেই তিনি আরও জানিয়েছেন, “১২ বছরে তিনি দেশকে এমন এক অবস্থায় এনেছেন যে জনগণকে বলে দিতে হয় - কী কিনবেন, কী কিনবেন না, কোথায় যাবেন, কোথায় যাবেন না। প্রতিবারই তারা দায় জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়, যাতে তারা নিজেরা জবাবদিহিতা থেকে বাঁচতে পারে। একজন আপোষকামী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশ চালানো আর সম্ভব নয়।

রাহুল গান্ধীর সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল জানান, যুদ্ধ শুরু হবার কয়েক সপ্তাহ পরেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মোদী ছিলেন সম্পূর্ণ দিশেহারা। বিশ্বের এই সংকটে আমাদের অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার বদলে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সাধারণ নাগরিকদের অসুবিধায় ফেলছেন তা নির্লজ্জ, বেপরোয়া এবং চূড়ান্তভাবে অনৈতিক।

তিনি আরও বলেন, যাতে কেউ অসুবিধায় না পড়ে তাই পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

রবিবার হায়দারাদাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে উঠে আসে কোভিড-১৯ সময়কার পরিস্থিতির কথা। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানী সংকটে জর্জরিত বিশ্ব। যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সময় আমাদের বাড়ি থেকে কাজ করা উচিত। পেট্রোল এবং ডিজেলের ব্যবহার কমাতে মেট্রোতে যাতায়াত করা উচিত। এক বছর বিদেশ ভ্রমণ করা উচিত নয়। ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া উচিত ভোজ্য তেলের। বিদেশি পণ্য ক্রয় বন্ধ রাখা উচিত। আগামী এক বছর সোনার কোনও গয়না না কেনারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে অনেকটাই কমে গেছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার। যার পরিমাণ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার দাঁড়িয়েছে ৬৯,০৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলারে।

রাহুল গান্ধী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
Rahul Gandhi: টাকা আরও নেমে ৯৪.০১ পয়সা; "আসন্ন মুদ্রাস্ফীতির স্পষ্ট লক্ষণ" - রাহুলের নিশানায় মোদী
রাহুল গান্ধী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
Rahul Gandhi: অমিত শাহের বিরুদ্ধে মন্তব্যের জেরে মানহানির মামলা, আদালতে হাজিরা রাহুল গান্ধীর

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in