

আমেরিকান ডলারের অনুপাতে ভারতীয় টাকার দাম ক্রমশ পড়ছে। শুক্রবার তা ৯৩ টাকা ৭১ পয়সাতে নেমে গিয়েছিল। এই নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, এগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং আসন্ন মুদ্রাস্ফীতির স্পষ্ট লক্ষণ। নির্বাচনের পরই পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজির দাম বাড়ানো হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, রবিবার ২১ মার্চ বিকেল ৪.৩৮ মিনিটে আমেরিকান ডলারের অনুপাতে ভারতীয় টাকার দাম ছিল ৯৪ টাকা ০১ পয়সা।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী লেখেন, “ডলারের অনুপাতে ভারতীয় টাকা দুর্বল হয়ে ১০০-এর কাছাকাছি চলে আসা এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত জ্বালানির দামে তীব্র বৃদ্ধি – এগুলো কেবল কোনও পরিসংখ্যান নয়, আসন্ন মুদ্রাস্ফীতির স্পষ্ট লক্ষণ।“
তিনি আরও বলেন, “সরকার হয়তো একে "স্বাভাবিক ঘটনা" বলতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো: ১) উৎপাদন ও পরিবহন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে; ২) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে; ৩) নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে; ৪) বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (Foreign Institutional Investor – FII) অর্থ দ্রুত বেরিয়ে যাবে, যার ব্যাপক প্রভাব পড়বে শেয়ার বাজারে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) একটানা বিক্রি করে চলেছেন। বুধবারে এফআইআই-দের পক্ষ থেকে ২,৭১৪.৩৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এফআইআই-এর পক্ষ থেকে ৭,৫৫৮.১৯ কোটি টাকার বিক্রি করা হয়েছে।
রায়বরেলির সাংসদের মতে, এই সবকিছুর ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়বে। তিনি বলেন, “এই সবকিছু প্রতিটি সাধারণ পরিবারের পকেটের উপর সরাসরি এবং গভীর প্রভাব ফেলবেই। আর এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা —নির্বাচনের পর পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজির দামও বাড়ানো হবে।“
কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মোদি সরকারের কোনো দিকনির্দেশনা বা কৌশল নেই — আছে শুধু বাগাড়ম্বর। সরকার কী বলছে, প্রশ্নটা তা নয় — আসল প্রশ্নটা হলো আপনার পাতে কী পড়ে থাকছে।“
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে জ্বালানি-সঙ্কটও তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৬০ টাকা করে গৃহস্থালি গ্যাসের দাম এবং ১১৪.৫০ টাকা বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম (সিলিন্ডার প্রতি) বেড়েছে। বেড়েছে প্রিমিয়াম পেট্রলের দামও। অটোর এলপিজি-র দামও বেড়েছে। তবে এখনও সাধারণ পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। নির্বাচনের পর সেই দামও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন রাহুল গান্ধী। উল্লেখ্য, আগামী মাসেই পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন