

একদিনে ভারতীয় টাকার দাম পড়লো ৮২ পয়সা। এর সঙ্গে সঙ্গেই সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গেল ভারতীয় টাকার দাম। আজ শুক্রবার ২০ মার্চ আমেরিকান ডলারের অনুপাতে ভারতীয় টাকার দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ৭১ পয়সা (প্রভিশনাল)। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিক্রির চাপে ভারতীয় টাকার দামে এই পতন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় টাকার দাম ৯৩ টাকা ৫৯ পয়সা।
শুক্রবারই দিল্লিতে প্রিমিয়াম ৯৫-অক্টেন পেট্রোলের দাম বেড়েছে লিটারে ২ টাকা। ৯৯.৮৯ টাকা থেকে বেড়ে তা হয়েছে ১০১.৮৯ টাকা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা লিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৯.৫৯ টাকা। যদিও সাধারণ পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত আছে।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি। “প্রিমিয়াম শ্রেণিতে সামান্য মূল্যবৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে, যা মোট বিক্রয়ের মাত্র ২-৪ শতাংশের মতো...”। তিনি আরও বলেন, তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো এই দাম নির্ধারণ করে। সরকার পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের শেয়ার বাজারে ধস নামলেও আজ কিছুটা হলেও ছন্দে ফিরেছে সেনসেক্স। শুক্রবার সেনসেক্স বেড়েছে ৩২৫.৭২ পয়েন্ট এবং নিফটি বেড়েছে ১১২.৩৫ পয়েন্ট। গতকাল সেনসেক্সে পতন হয় ২,৪৯৬.৮৯ পয়েন্ট এবং নিফটিতে পতন হয় ৭৭৫.৬৫ পয়েন্ট। ২০২৪-এর জুন মাসের পরে শেয়ার বাজারে কোনও এক দিনে এটাই সর্বাধিক পতন।
জানা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (Foreign Institutional Investor – FII) একটানা বিক্রি করে চলেছেন। যার ফলে বাজারের ওপর প্রবল চাপ পড়েছে।
বুধবারে এফআইআই-দের পক্ষ থেকে ২,৭১৪.৩৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এফআইআই-এর পক্ষ থেকে ৭,৫৫৮.১৯ কোটি টাকার বিক্রি করা হয়েছে।
এছাড়াও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি দাঁড়িয়েছে ১১৯ আমেরিকান ডলার। একদিনে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেও বাজারে চাপ এসেছে।
গতকাল একদিনের ধসে বিনিয়োগকারীদের ১২ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজার মূলধন আগের সেশনের ৪৩৮ লাখ কোটি টাকা থেকে কমে একদিনে ৪২৬ লাখ কোটি টাকায় নেমে আসে।