

সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছালো ভারতীয় টাকার মূল্য। বুধবার ২১ জানুয়ারি মার্কিন ডলারের অনুপাতে একসময় ভারতীয় টাকা পৌঁছে যায় ৯১ টাকা ৭৪ পয়সায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতীয় ইক্যুইটি থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির কারণে এবং সাম্প্রতিক গ্রীনল্যান্ড বিতর্কের জেরে এদিন টাকার দাম পড়েছে ৭৭ পয়সা।
এদিন সকালে ভারতীয় মুদ্রার লেনদেন শুরু হয় ৯১ টাকা ৮ পয়সায়। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গত তিন মাসের মধ্যে এটিই একদিনে ভারতীয় টাকার দরে সর্বাধিক পতন। এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে ভারতীয় দ্বিতীয় সবথেকে খারাপ মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালেই এখনও পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার ১.৯৮ শতাংশ পতন ঘটেছে। ২০২৫ সালে ভারতীয় মুদ্রার পতন ঘটেছে ৫ শতাংশ।
মূলত ট্রাম্পের আনা গ্রীনল্যান্ড ইস্যু, জাপানের বন্ড বিক্রির কারণে টাকার দামে পতনের পাশাপাশি শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী। এই নিয়ে একটানা ছ’দিন ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতন অব্যাহত রয়েছে। গতকালই শেয়ার বাজারে সেনসেক্সের পতন হয়েছিল ১২০০ পয়েন্ট।
বুধবার দিনের শুরুতে সেনসেক্স ১,০৫৬.০২ পয়েন্ট নেমে যায়। নিফটি নামে ৩১২.৭ পয়েন্ট। এই প্রথমবার নিফটি ২৫ হাজারের নিচে নেমে ২৪,৯১৯.৮০ ছুঁয়ে এসেছে। মঙ্গলবার সেনসেক্স বন্ধ হয়েছিল ৮২,১৮০.৪৭ পয়েন্টে। এদিন খোলার সময় যা ছিল ৮১,৭৯৪.৬৫ পয়েন্ট এবং বন্ধ হয়েছে ৮১,৯০৯.৬৩ পয়েন্টে। এদিনের ডে হাই ৮২,৪০৭.০৫ এবং ডে লো ৮১,১২৪,৪৫। নিফটি ৫০-র ক্ষেত্রে গতকাল যা বন্ধ হয়েছিল ২৫,২৩২.৫০ পয়েন্টে এদিন তা খোলে ২৫,১৪১ পয়েন্টে এবং বন্ধ হয় ২৫,১৫৭.৫০ পয়েন্টে। নিফটি ৫০-তে এদিনের ডে হাই ২৫,৩০০.৯৫ এবং ডে লো ২৪,৯১৯.৮০।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর মার্কিন ডলারের অনুপাতে ভারতীয় টাকার দাম ছিল ৯১ টাকা ১৪ পয়সা। ভারতীয় বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু, ভেনেজুয়েলার তেলের ভান্ডারের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ, ইউরোপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রভৃতির কারণে শেয়ার বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিজনেস লাইনের প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজার থেকে ৩ বিলিয়ন ইউ এস ডলার তুলে নিয়েছে। ২০২৫-এ এই পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ইউ এস ডলার।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন