সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলীয় কার্যালয় থেকে করা এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি এই দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেশের নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত এক তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের উচিত বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে রাজসাক্ষী হওয়া। তাতে দেশের স্বার্থ রক্ষিত হবে, দেশের মঙ্গল হবে। ভোট চুরির জন্য মোদী ও শাহের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। এই ষড়যন্ত্রের শীর্ষে রয়েছেন তাঁরা। আমরা কোনোভাবেই গণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেব না এবং চুপ করে বসেও থাকবো না।
এদিন রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ বেছে নিয়েছিলেন। এখন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বলছেন, তিনিই আমাদের ভোট ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা এবং ক্ষতির জন্য দায়ী। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা দেশের সংবিধান এবং আইনি কাঠামোর ওপর আক্রমণ। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা এর আগে ‘ভোটচুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে যা যা বলছিলাম তাকে ঠিক প্রমাণিত করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনারই। তিনি দাবি করেন, ২০২৪-এর ভুয়ো নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর জয়ের পক্ষে জনমত ছিল না।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে রাহুল গান্ধী বলেন, শুধু একটি ভোটে রিগিং হয়েছে এমনটা নয়। আপনি যা করছেন তা দেশের সংবিধানের ওপর আঘাত, দেশের ওপর আঘাত। আপনি নিজেও তা বোঝেন। আমরা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দিচ্ছি না। যারা এর জন্য দায়ী তাদের শাস্তি হবেই। আমরা তা নিশ্চিত করব।
রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা জানি কী হচ্ছে। কমিশনের বিভিন্ন সূত্র থেকেও খবর পাচ্ছি। আমরা বলছি যে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অপরাধের জন্য দায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। এই কাজ ভারত রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ। এটা দেশদ্রোহীর কাজ। যারা ভোটদানের অধিকারের মতো সংবিধানের মৌলিক ভিত্তিতে আক্রমণ চালায় তারা দেশদ্রোহী ছাড়া অন্য কিছু নয়।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ কিছু ভিডিও চালান রাহুল গান্ধী। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলতে শোনা যায় বিজেপি আগামী ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এরকমই এক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আব কী বার চারশো পার বলতে শোনা যায়। এই ভিডিও শুনিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিসরে কোনও রাজনৈতিক নেতা এই ধরণের মন্তব্য করতে পারেন না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন