

“জ্ঞানেশ কুমারের পদে থাকার কোনো অধিকার নেই!” বুধবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে সিপিআইএম পলিটব্যুরো। দলীয় বিবৃতিতে সিপিআইএম আরও জানিয়েছে, “নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর সংস্কার প্রয়োজন”। এদিনই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে দুই সদস্যকে অন্ধকারে রেখেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পরেই দেশের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, শিবসেনা ইউবিটি সহ দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে সিপিআইএম পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়া বা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR)-কে কেন্দ্র করে 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর তথ্য কেবল এই প্রক্রিয়া নিয়েই নয়, বরং ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই প্রতিবেদন সেই সন্দেহ ও উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে, যা SIR প্রক্রিয়া শুরুর সময় থেকেই সিপিআই(এম), অন্যান্য বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো প্রকাশ করে আসছিল।”
সিপিআইএম তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, “প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তিনজন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী, তিনজন নির্বাচন কমিশনারই সমান পদমর্যাদার অধিকারী এবং কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বা সর্বসম্মতিক্রমে নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এই নিয়ম মানেননি; বরং সহযোগী নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি নিজের মতামতই চাপিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মতপার্থক্যগুলো ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া এবং SIR প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর সাথেই জড়িত।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কড়া সমালোচনা করে সিপিআইএম পলিটব্যুরো জানিয়েছে, “এখন যা সামনে আসছে তা হলো, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এতদিন ধরে মিথ্যা দাবি করে আসছিলেন যে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিকেন্দ্রীভূত। এখন এটা স্পষ্ট যে, গত কয়েক মাসে পুরো ব্যবস্থাকে এতটাই কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে যে, আসলে কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টও প্রযুক্তির ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং নোটিশ জারির ক্ষেত্রে ‘যান্ত্রিক’ বা অসংবেদনশীল পদ্ধতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।”
নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিআইএম জানিয়েছে, “দুই নির্বাচন কমিশনার যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন, তা কেবল SIR প্রক্রিয়ার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে জড়িত রয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও গণতান্ত্রিক কার্যপদ্ধতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অত্যধিক কেন্দ্রীকরণ এবং সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়টি। একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা আজ প্রশ্নের মুখে। আপস-করা বা পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে; আর এর জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেই জবাবদিহি করতে হবে। তাঁর আর পদে থাকার কোনো অধিকার নেই।”
অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি করে সিপিআইএম পলিটব্যুরো জানিয়েছে, “নির্বাচন কমিশনের সততা ও গণতান্ত্রিক কার্যপদ্ধতি পুনরুদ্ধার করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে; এর জন্য বর্তমান আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা ও ভারতের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত নির্বাচন কমিটির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন