পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার নভজ্যোত সিং সিধুর স্ত্রী নভজ্যোত কাউর সিধু। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে নভজ্যোত কাউরের অভিযোগ, ‘তুচ্ছ লাভের জন্য তিনি দলকে বিক্রি করে দিচ্ছেন’। তাঁর আরও অভিযোগ, আম আদমি পার্টির সঙ্গে রাজ্যে তিনি সমঝোতা করে চলছেন। প্রসঙ্গত, এক মাস আগেই নভজ্যোত কাউর সিধু কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলেন।
গতকাল নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক পোষ্টে নভজ্যোত কাউর সিধু বলেন, “রাজা ওয়ারিং, সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, অক্ষম, দুর্নীতিগ্রস্ত সভাপতি। কংগ্রেসকে ধ্বংস করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সমঝোতা করে তিনি নিজেকে জেল যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। আপনি AAP-এর সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে সামান্য লাভের জন্য দলকে বিক্রি করে দিয়েছেন।”
প্রাক্তন পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত কাউরের আরও অভিযোগ, তাঁর কাছে দলের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রমাণ আছে। কিন্তু তিনি স্বেচ্ছায় কংগ্রেস ছেড়েছেন। কারণ দলে কোনও প্রগতিশীল কংগ্রেস নেতার কথা শোনা হচ্ছে না।
পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি ওয়ারিং-কে উদ্দেশ্য করে কাউর বলেন, আপনি হাসির পাত্র হয়েছে গেছেন এবং মানুষ আপনার রিলস উপভোগ করছে। নভজোতকে ভালোবাসে এমন কংগ্রেস নেতাদের অসম্মান করা বন্ধ করুন। দলকে জয়ী করার চেয়ে ধ্বংস করতে আপনি বেশি ব্যস্ত। নিজের দলের প্রতি আন্তরিক না হওয়ার জন্য আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত। আপনি দলের যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন।
ওই বার্তায় তিনি আরও লিখেছেন, যাঁরা প্রকাশ্যে আপনাকে এবং দলকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, (ভারত ভূষণ) আশু, (চরণজিৎ সিং) চান্নি, (রাজিন্দর কৌর) ভাট্টাল জি, ডঃ (ধরমবীর) গান্ধী জি এবং আরও অনেকের মতো সেইসব বিশিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে আপনার পদক্ষেপ কোথায়?
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হন নভজ্যোত কাউর সিধু। ৬ ডিসেম্বর তিনি দাবি করেছিলেন ৫০০ কোটি টাকা দিলেই তাঁর স্বামী প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোত সিং সিধু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জন্য তাঁর স্বামীর নাম মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে ঘোষণা করে হলে তিনি রাজনীতিতে ফিরবেন।
২০১২ সালে অমৃতসর পূর্ব কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছিলেন নভজ্যোত কাউর সিধু। ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল তিনি বিজেপি ত্যাগ করেন এবং পরে কংগ্রেসে যোগ দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন