পাঞ্জাবে পুর নির্বাচনে জয় জয়কার আম আদমি পার্টির। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই লড়াইকে সেমিফাইনাল হিসেবে ধরছিল রাজনৈতিক মহল। যে লড়াইতে প্রায় একতরফাভাবে জয়লাভ করেছে আপ। এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলের গতি প্রকৃতি অনুসারে রাজ্য ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি জয়ী হয়েছে ৯০০-র বেশি ওয়ার্ডে।
ফলাফলের গতি প্রকৃতি সামনে আসার পর এক বিবৃতিতে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, “ইডি (ED) পার্টি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাঞ্জাবের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর একের পর এক অভিযান চালিয়ে যে ইডি পার্টি মানুষকে হয়রানি করেছিল, আজ জনগণ তার প্রতিশোধ নিয়েছে।” এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া জানিয়েছেন, "ইডি পার্টির ১১৪২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।"
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে আম আদমি পার্টি জয়ী হয়েছে ৯৫২ ওয়ার্ডে, কংগ্রেস ৩৮৬ ওয়ার্ডে, নির্দল ২৫১ ওয়ার্ডে, শিরোমণি আকালি দল ১৯১ ওয়ার্ডে এবং বিজেপি ১৭০ ওয়ার্ডে। এছাড়াও বহুজন সমাজ পার্টি জয়ী হয়েছে ৭ ওয়ার্ডে।
পাঞ্জাবের মোট ১০২টি পুরসভা, নগর পঞ্চায়েত এবং পুর কর্পোরেশনের ১,৯৭৭ ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮৯৭ ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ হয় গত ২৬ মে। ৮০ টি ওয়ার্ডের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে নগর পঞ্চায়েত অঞ্চলে ভোট পড়েছিল ৭৬.১৮ শতাংশ। পুরসভায় ৬৫.০৬ শতাংশ এবং পুর কর্পোরেশনে ৫৯.৯১ শতাংশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত সিং মান বলেন, “পাঞ্জাবের মানুষ ঘৃণার রাজনীতিকে পরাজিত করেছে এবং উন্নয়নের রাজনীতিকে সমর্থন জানিয়েছে। বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতিতে লিপ্ত দলগুলোকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।”
প্রসঙ্গত, পাঞ্জাবের পুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যালট পেপারে। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ২৫ মে পাঞ্জাবের পুরভোট ইভিএম-এ করতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে এক পিটিশন দাখিল করা হলেও তাতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত।
গত ১৫ মে নির্বাচন কমিশন পাঞ্জাব জানিয়েছিল, এবারের পুর কর্পোরেশন নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (EVM) পরিবর্তে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের এই ঘোষণার পরপরই ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
পাঞ্জাব বিজেপির সভাপতি সুনীল জাখরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং দাবি জানায় যে, অতীতের প্রথা মেনে নির্বাচন যেন EVM-এর মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় এই নেতা অভিযোগ করেন যে, সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায়ই আম আদমি পার্টি (AAP) সরকার ব্যালট পেপার পদ্ধতি চালু করছে; এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভোট গণনার সময় ফলাফলকে প্রভাবিত বা কারচুপি করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন