

তাঁর দল ভোটের ময়দানে নামলেও তিনি কখনও ভোটের লড়াইতে সরাসরি নামেননি। এবার বিহারের উপনির্বাচনে এক কঠিন আসনে প্রার্থী হতে চলেছেন জন সূরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। যিনি আগে ভোট কুশলী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এবার বিহারের বাঁকিপুর কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে জন সূরজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। বাঁকিপুর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক নীতিন নবীন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হবার পর এই কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
কী জানিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর?
জন সূরজের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মুখ্যমন্ত্রী হবার পর এটাই বিহারের প্রথম নির্বাচন। যদি এই কেন্দ্রের ভোটে বিজেপি জয়ী হয় তাহলে আমি মেনে নেব যে বিজেপির পেছনে জনসমর্থন আছে। আর যদি বিজেপি পরাজিত হয় তাহলে তাদের দেওয়ালের লেখা পড়ে নিতে হবে। তাই আমি সমস্ত বিরোধীদলের কাছে আবেদন রাখছি যে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কেন্দ্রে লড়াই করা হোক এবং বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপিকে জবাব দেওয়া হোক।
প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে কী মত বিরোধীদের?
ইতিমধ্যেই বিহারের কংগ্রেস নেতা ঋষি মিশ্র ইতিমধ্যেই এক বিবৃতিতে বাঁকিপুর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একজন বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে সওয়াল করেছেন এবং প্রশান্ত কিশোরকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও আরজেডি এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই প্রসঙ্গে আরজেডি মুখপাত্র ইজাজ আহমেদ জানিয়েছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো এবং আমাদের দলীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা চাই সঠিক পরিকল্পনা করে এই কেন্দ্রে বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দিতে।
বাঁকিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচন কবে?
আগামী ৩০ জুলাই বাঁকিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচন। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি এই কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে আগামী ৩ আগস্ট। বাঁকিপুর কেন্দ্রে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। একাধিক নাম ভেসে বেড়ালেও কোনও নাম নিয়েই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হতে পারেন দলের মুখপাত্র অজয় অলোক। আবার ওই অঞ্চলের বিজেপির পরিচিত মুখ নীলরতন ঘোষের নামও প্রার্থী হিসেবে ভেসে উঠেছে।
বাঁকিপুর কেন্দ্রের অতীত ভোটের ফলাফল
বর্তমানের বাঁকিপুর কেন্দ্রের নাম আগে ছিল পাটনা পশ্চিম। যে কেন্দ্রে ১৯৯৫ সাল থেকে একটানা জয়ী হয়েছে বিজেপি। নীতিন নবীনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহা এই কেন্দ্র থেকে ১৯৯৫, ২০০০, ২০০৫ সালে জয়ী হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৬ থেকে একটানা জয়ী হয়ে এসেছেন নীতিন নবীন। ২০২৫ বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন ৫১,৯৩৬ ভোটে (প্রাপ্ত ভোট ৯৮,২৯৯)। ওই কেন্দ্রে আরজেডি-র রেখা কুমারী পেয়েছিলেন ৪৬,৩৬৩ ভোট এবং জন সূরজ পার্টির বন্দনা কুমারী পেয়েছিলেন ৭,৭১৭ ভোট।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন