

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগ দিলে কেন্দ্র সরকার আরও বেশি তহবিল পাঠাবে রাজ্যে। পিনারাই বিজয়নকে এমন পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস অঠাওয়ালে। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে রাজ্যের শাসক দল সিপিআই(এম)।
বুধবার সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রামদাস অঠাওয়ালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “বিজয়ন যদি এনডিএ-তে যোগ দেন, তাহলে সেটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে। আমরা কেরল বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হব এবং ফের বিজয়নকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। নিশ্চিতভাবে কেন্দ্র থেকে কেরালায় আরও বেশি অর্থ আসবে। এই অর্থ রাজ্যের উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে। নরেন্দ্র মোদি কেরালাকে একটি বড় প্যাকেজও দেবেন।“
সিপিআই(এম) এবং সিপিআই-কেও এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মহারাষ্ট্র-ভিত্তিক রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এ)-এর সভাপতি অঠাওয়ালে। সাংবাদিকদের সামনে তাঁর যুক্তি, “যদি সমাজতান্ত্রিক নেতারা এনডিএ-তে যোগ দিতে পারেন, তাহলে কমিউনিস্ট নেতারা কেন পারবেন না?”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কেরল সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য সাংবিধানিক নীতি ও মূল্যবোধের সরাসরি পরিপন্থী এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উপর একটি আক্রমণ। এটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা, যা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবকে প্রকাশ করে এবং দেশকে নব্য-ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।“
তাঁর আরও অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে কেরালাকে তার প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল দেয়নি কেন্দ্র। একাধিকবার এই নিয়ে দাবি জানিয়েছে কেরালা সরকার।
রাজ্যে ক্ষমতাসীন এলডিএফ-এর অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়ার পরিমাণ এখনও অনেক। এর মধ্যে ধান কেনা বাবদ ১,৩৪৪ কোটি টাকা, সমগ্র শিক্ষা অভিযান খাতে ১,০৬৬.৩৬ কোটি টাকা রয়েছে। জল জীবন মিশন খাতে বকেয়া রয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। সামাজিক সুরক্ষা খাতে বকেয়া ৩৪১ কোটি। এছাড়াও আরও নানা খাতে রাজ্যের বকেয়া প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র।
রাজ্যের প্রাপ্য অর্থের দাবিতে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, অন্যান্য মন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়করা তিরুবনন্তপুরমে সত্যাগ্রহ করেন। সেখানে এলডিএফ-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাজ্যের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কেরালার প্রাপ্য অর্থের মোট ৯,২৬৭.৬ কোটি টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন