লোকসভায় তুমুল প্রতিবাদের জেরে অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হল। বুধবার অধিবেশন শুরুর পরে গতকাল ৮ সাংসদকে সাসপেন্ড করার প্রতিবাদে বিরোধী সাংসদরা সরব হন। বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদে অধিবেশন স্তব্ধ হয়ে যায় এবং স্পিকার বেলা ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। আজই রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদসূচক ভাষণ দেবার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।
গতকাল যে ৮ বিরোধী সাংসদকে অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল এদিন তাঁরা সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁরাও ‘প্রধানমন্ত্রী সমঝোতা করেছেন’ দাবি তুলে সরব হন।
সাসপেন্ড হওয়া কংগ্রেস সাংসদ হিবি এডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম ঠাকুর, গুরজিত সিং আজলা, প্রশান্ত ইয়াদারাও পাদোলে, চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি এবং ডিন কুরিয়াকোশে এবং সিপিআইএম সাংসদ এস ভেঙ্কটেশন-কে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়।
এদিনের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আনন্দ ভাদোরিয়া লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সমর্থনে বলেন, যারা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন সংসদে তাঁদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সংসদের ভেতরে যখনই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তখনই বিরোধীদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করে দিতে চাইছে শাসকদল। এটা বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমনের চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।
এদিনই সকাল ১১টায় লোকসভার অধিবেশন শুরু হলে কংগ্রেসের মণীশ তেওয়ারি সংসদে অবিলম্বে ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব আনেন। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গতকাল লোকসভার অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে বাধা দেবার প্রতিবাদে বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভের সময় ৮ সাংসদকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা কাগজ ছিঁড়ে স্পিকারের দিকে ছুঁড়েছিলেন এবং বিধিভঙ্গ করেছেন। এই সময় স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ সইকিয়া।
গতকাল সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু তাঁদের সাসপেনশনের প্রস্তাব পেশ করেন। বিরোধীদের বাধার মধ্যেও লোকসভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন