

মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশীয়ারীর পদ্মভূষণ প্রাপ্তির কড়া সমালোচনা করলো শিবসেনা উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর মুখপাত্র সঞ্জয় রাউথ। সোমবার শিবসেনা নেতা রাউথ বলেন, মহারাষ্ট্রে গণতন্ত্র হত্যার নায়ক ভগত সিং কোশিয়ারী। যিনি ঠান্ডা মাথায় উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আঘাদির সরকার পতনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়ে গণতন্ত্র এবং সংবিধানের হত্যা করেছেন। কোশিয়ারির পদ্ম সম্মান প্রাপ্তির কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেসও।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিবসেনা ইউবিটি মুখপাত্র বলেন, মহারাষ্ট্রের মহাযুতি সরকার, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ধে, অজিত পাওয়ার – সকলের উচিত কোশিয়ারীর পদ্মভূষণ প্রাপ্তির সমালোচনা করা। কারণ এই ব্যক্তি ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ, সমাজ সংস্কারক মহাত্মা ফুলে এবং সাবিত্রীবাই ফুলের অসম্মান করেছেন। তিনি গণতন্ত্র এবং সংবিধানের হত্যা করে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটিয়েছিলেন।
এদিন সঞ্জয় রাউথ আরও বলেন, এমনকি সুপ্রিম কোর্টও সেইসময় বলেছিল ভগত সিং কোশিয়ারী তাঁর সময়কালে বেআইনি কাজ করেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, কোশিয়ারী চেয়েছিলেন মহারাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের পতন ঘটিয়ে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা করার।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হর্ষবর্ধন সপকল এবং বর্ষা গায়কোয়াড় জানিয়েছেন, ভগত সিং কোশিয়ারী সাংবিধানিক পদের অমর্যাদা করেছিলেন এবং রাজ্যের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছিলেন। কংগ্রেস সাংসদ বর্ষা গায়কোয়াড় এই প্রসঙ্গে বলেন, বিজেপির অতীত ইতিহাসেই দেখা যাবে তারা বারবার মহারাষ্ট্রের খ্যাতনামা নেতৃত্বের অসম্মান করেছেন। কোশিয়ারীও একইভাবে ছত্রপতি শিবাজী, মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে, সাবিত্রীবাই ফুলেকে অসম্মান করেছিলেন। এই ধরণের একজন মানুষকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করার অর্থ মহারাষ্ট্রকে অসম্মান করা।
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল থাকার সময় একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ভগত সিং কোশিয়ারী। তাঁর বিরুদ্ধে সবথেকে বড়ো অভিযোগ উঠেছিল উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আঘাদি সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার। রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে ২০২২ সালে একনাথ শিন্ধের শিবসেনা ভাঙার সময় তিনি এনডিএ জোটের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি ছত্রপতি শিবাজী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
ভগত সিং কোশিয়ারী ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি উত্তরাখন্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। ৩০ অক্টোবর ২০০১ থেকে ১ মার্চ ২০০২, মোট ১২২ দিন তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০০৮ থেকে ২০১৪ তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এবং ষোড়শ লোকসভায় তিনি নৈনিতাল উধমসিং নগরের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক ভাবে তিনি বিজেপি সদস্য এবং আরএসএস-এর সক্রিয় সদস্য। তাঁর পদ্ম সম্মান প্রাপ্তিতে তাঁকে অভিনন্দিত করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন