২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ওড়িশায় ৫৪টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ৭টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার ওড়িশা বিধানসভায় বিজু জনতা দলের (Biju Janata Dal - BJD) বিধায়ক গৌতম বুদ্ধ দাসের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে একথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। ২০২৪ সালের ১২ জুন ওড়িশায় পালাবদল হয় এবং বিজেডি-কে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসে বিজেপি (BJP)।
ওড়িশার বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উল্লিখিত সময়ে সবথেকে বেশি দাঙ্গা হয়েছে বালাসোর জেলায়। যেখানে ২৪টি এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এরপরেই তালিকায় আছে খুরদা জেলার নাম। যেখানে ঘটনার সংখ্যা ১৬। এই তালিকায় রাজধানী ভুবনেশ্বরও আছে। মুখ্যমন্ত্রীর লিখিত উত্তরে জানানো হয়েছে, দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই সময় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ২৯৮ জনকে। যদিও এখনও পর্যন্ত অর্ধেকের কম ঘটনায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, বালাসোর জেলায় ২৪টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। যাতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৯৫ জনকে এই সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুরদা জেলায় ১৬টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোরাপুট জেলায় ৮টি দাঙ্গার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে, মালকানগিরি জেলায় ৪ টি এবং ভদ্রক জেলায় ২টি দাঙ্গার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মাঝি বলেন, মালকানগিরি জেলায় দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, এবং দুটি দাঙ্গার ঘটনায় ভদ্রক জেলায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজ্যে ওই সময় যে ৭টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে আছে দেওগড়, ঢেঙ্কানল, বালাসোর এবং রায়গড়। যার মধ্যে রায়গড় জেলাতেই ৩টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে এবং এই তিনটি ঘটনায় মোট ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢেঙ্কানল জেলায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে ২টি। যদিও কাউকেই এই দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। দেওগড় এবং বালাসোরের গণপিটুনির ঘটনায় যথাক্রমে ৬ এবং ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণপিটুনির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং গণপিটুনি প্রতিরোধ করতে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অঞ্চলে অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে শান্তি কমিটি। প্রশাসনিক স্তর থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যারা শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর রিপোর্টে কটকে-র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা উল্লেখ করা হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে দুর্গাপুজার সময় এই দাঙ্গা হয়। যখন তিন দিনের কার্ফু জারি করা হয়েছিল এবং ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
রাজ্যের বিরোধীদের মতে, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বাড়ছে।
২০২৪ সালে ওড়িশা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেডি-কে পরাস্ত করে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। ১৪৭ আসন বিশিষ্ট ওড়িশা বিধানসভায় ৭৮ আসনে জয়ী হয় বিজেপি। বিজেডি জয়ী হয় ৫১ আসনে এবং কংগ্রেস জয়ী হয় ১৫ আসনে। অন্যান্যরা জয়ী হয় ৩ আসনে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন